সৌভিক সিকদার, ফাইনাল এক্সপোজার -:
রবীন্দ্রচেতনাকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া, নতুনের আবাহনে সাহিত্যচর্চাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে কবিগুরুর সৃজনের আবহে লাল মাটির শান্তিনিকেতনে, বসন্তের পলাশ রাঙা বিকেলে অনুষ্ঠিত হলো ‘বসন্ত বরণে রবীন্দ্র স্মরণে’ শীর্ষক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বোলপুরের গীতবিতান অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা হলো ‘জেনারেশন অ্যাচিভার’। যৌথভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় ‘সাহিত্য দিশারী’ এবং ‘সাংস্কৃতিক মহামঞ্চ। প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে ছিল বৈচিত্র্যময় পরিবেশনা। স্থানীয় এবং আমন্ত্রিত শিল্পীদের কণ্ঠে বসন্তের নানা পর্যায়ের গান শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। গানের তালে শান্তিনিকেতনি ঘরানার নৃত্য পরিবেশনা অনুষ্ঠানটিকে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। একটি মনোজ্ঞ কবিতা পাঠের আসরও বসে। উপস্থিত গুণীজনেরা রবীন্দ্র সাহিত্যে বসন্তের প্রভাব এবং আজকের দিনে বিশ্বভারতীর আদর্শ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত মননশীল আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে যৌথ সঙ্কলন ‘অন্তর্লীন’এর মোড়ক উন্মোচিত হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী সুপ্রিয়া ঘোষ ও ‘সুখ’ কবি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুদৃপ্ত ঠাকুর, প্রবীণ সাংবাদিক বরুণ চক্রবর্তী, ড. দীপ্তি মুখার্জী, সাংবাদিক ধনঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।
গীতবিতান অডিটরিয়ামের কানায় কানায় পূর্ণ দর্শকাসন প্রমাণ করে, শান্তিনিকেতনের প্রান্তরে আজও রবীন্দ্রনাথ এবং বসন্তের আবেদন কতটা গভীর। ”বসন্তের এই উৎসব কেবল রঙের নয়, এ হলো প্রাণের মেলা” – অনুষ্ঠানটি সেই প্রাণের স্পন্দনকেই ছুঁয়ে যায়।

