বেবী পাত্র (গুড়াপ, হুগলী)

চর্যাপদ হল বাংলা ভাষায় প্রথম গীতিকা
সাধনতত্ত্বের মধ্যেই আছে সাহিত্যের প্রীতিকা।
চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন প্রেমের উপাখ্যান
মিলন, যন্ত্রণায় রচিত রাধা, কৃষ্ণের আখ্যান।
ভারত চন্দ্র গাইলেন অন্নদামঙ্গলের গান
মাটির ঘরে দেবতা বসে গঞ্জিকায় দেন টান।
রামপ্রসাদের শাক্ত পদে উমা যে ঘরের কন্যা
আগমনী বিজয়া গানে বাৎসল্য রসের বন্যা।
যুগে যুগে মিলনে নয় ,বিচ্ছেদ প্রেমের সম্বল,
মহুয়া, মলুয়ার কাহিনি শুনে চোখে আসে জল।
মাটির গানের সুরে মাতে, সে সুর বড় মধুর
বাউল তোলে মনের মানুষ একতারাতে সুর।
বাঙালির ঘরে ঘরে পৌঁছে গেল বর্ণ পরিচয়
বিদ্যাসাগরের কীর্তি আজও যে অমর, অক্ষয়।
পয়ার, ত্রিপদী ছন্দের কাছে বাংলা ভাষা ঋণী
মধুকবি তুললেন অমিত্রাক্ষর ছন্দের ধ্বনি।
বিশ্বকবির অমর সৃষ্টি, মাতলো জগতবাসী
জন্ম,মৃত্যু,আনন্দে,শোকে তাঁর গানের সুরে ভাসি।
বঙ্কিম, শরৎ , মানিক কথাসাহিত্যের যে প্রাণ ,
শব্দের আখরে ছড়িয়ে দিলেন জীবনের ঘ্রাণ।
যুগের দাবী তুলে মহাশ্বেতা, সুচিত্রা, আশাপূর্ণা
নারী মনের কথা লিখে নারীকে করেন সম্পূর্ণা।
জীবনানন্দ, শক্তি, অমিয়র মাটির প্রতি টান
ধূসর কালি সরিয়ে গাইলেন জীবনের গান।
চর্যাপদের সুরে প্রথম মেতেছিল বাঙালির মন
বিশ্বমাঝে বাংলা ভাষা শ্রেষ্ঠ, থাকবে চিরন্তন।
