কাজল মিত্র, বারাবনি:- বারাবনী। জাতীয় তৃণমূল যুব সভাপতি অভিষেক ব্যানার্জী শনিবার বারাবনী বিধানসভা কেন্দ্রের পানুরিয়া পঞ্চায়েতের গৌরান্ডি আমবাগানে তৃণমূল প্রার্থী বিধান উপাধ্যায়ের সমর্থনে প্রচার চালাতে একটি বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন। তিনি বিজেপি সরকারের নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। পশ্চিম বর্ধমান জেলার সমস্ত বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীসহ প্রায় সকল বিশিষ্ট নেতা এই সভায় উপস্থিত ছিলেন। দুপুর প্রায় দেড়টার দিকে অভিষেক ব্যানার্জী হেলিকপ্টারে করে সভাস্থলে পৌঁছান, যেখানে পশ্চিম বর্ধমান তৃণমূল সভাপতি শিবদাসন দাসু, আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী মলয় ঘটক, পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী নরেন চক্রবর্তী, রানিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী কালোবরণ মণ্ডল, জামুরিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হরেরাম সিং, কুলটির প্রাক্তন বিধায়ক উজ্জ্বল চ্যাটার্জী, দুর্গাপুর পূর্ব প্রদীপ মজুমদার, দুর্গাপুর পশ্চিম কবি দত্ত, ভি শিবদাসন দাসু, বিশ্বনাথ বাউরি এবং আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এ সময়, হেলিকপ্টার থেকে নামার সাথে সাথেই বারাবনী বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী বিধান উপাধ্যায় তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। বারাবনী বিধায়ক বিধান উপাধ্যায় স্বাগত ভাষণে বলেন যে, এটি প্রয়াত মানিক উপাধ্যায়ের ভূমি, যিনি এখানকার মানুষকে কখনও ভোটার হিসেবে দেখেননি, বরং পরিবারের মতো দেখতেন। তিনি আরও বলেন যে, দিদি আমাকে চতুর্থবারের জন্যে আপনাদের সকলের মধ্যে কাজ করার জন্য এখানে পাঠিয়েছেন।
এই সময় অভিষেক ব্যানার্জী বলেন যে, বিধান উপাধ্যায়কে আলাদাভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ বিধান উপাধ্যায় এমন একজন নেতা যিনি আপনাদের পরিবারের সন্তান, কারও ভাই এবং কারও দাদা ।
বিধান উপাধ্যায় তিনবার বিধায়ক হয়েছেন, মমতা ব্যানার্জী তাঁকে চতুর্থবারের জন্যে আবার রেবিধানসভার প্রার্থী করে আপনাদের মধ্যে পাঠিয়েছেন। তাঁর বাবা মানিক উপাধ্যায়ও ২০০১ সালে বিধায়ক পদ জিতেছিলেন।
বর্তমানে, বিধান উপাধ্যায় গত পাঁচ বছর ধরে আসানসোলের মেয়র পদে রয়েছেন। ২০২১ সালে তিনি বারাবনী বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ২৩,৪৫৭ ভোটে জয়ী হন। ২০২৪ সালে তৃণমূল ২৫,০০০-এর বেশি ভোটে জিতেছিল। বিজেপির সেইসব সদস্যদের পরাজিত করেই তাঁকে এই নির্বাচনে জিততে হবে, যারা তাদের গুণ্ডামির মাধ্যমে নানাভাবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে আসছে। গত ১০০ বছরে বিজেপি এই বারাবানি এলাকা থেকে যেন কোনো প্রার্থী খুঁজে না পায়।এইবারে ৪০,০০০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবেন বিধান উপাধ্যায়। এই এলাকার মানুষ তাঁকে বিধায়ক হিসেবে কম এবং ভাই দাদা হিসেবে বেশি ডাকে। ৩৫৬ দিন ধরে তিনি পাচ গেছিয়া অফিসে বসে সবার কথা শোনেন। তিনি সব রাজনৈতিক দলের কথা সোনেন । অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী অরিজিৎ রায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন যে, এক মাস আগে বিজেপির রথযাত্রার সময় অরিজিৎ রায় একজন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীকে মারধর করে এবং নিজের দলের অফিসে একজন বিজেপি কর্মীকে আক্রমণ করেছিলেন, যার বিরুদ্ধে তাঁর নিজের দলেরই এক সমর্থক অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
তিনি বলেন যে অরিজিৎ রায়কে ভোট দেওয়া মানে অশুভকে আমন্ত্রণ জানানো। বিজেপির জেলা কার্যালয়টি কয়লা মাফিয়া এবং কয়লা চোরদের দখলে।
কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন যে, মানুষ এই সভায় রাজনৈতিক আলোচনা শুনতে আসেননি, বরং দিল্লি থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রদায়িক দলকে উৎখাত করার নীতির জন্য এসেছেন। তিনি বলেন যে, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সমস্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দ্রুতগতিতে বাড়ছে। গ্যাস সিলিন্ডার, পেট্রোল, কেরোসিন এবং আরও অনেক জিনিসের দাম বাড়ানো হয়েছে। গত ১৫ বছরে বিজেপি কী করেছে?
কিন্তু “মা মাটি মানুষ” সরকার ১৫ বছরে কী করেনি? এই সরকার জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এমন সব প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে যা সকল ধর্মের জন্য সমান। লক্ষ্মী ভান্ডার, কৃষক বন্ধু, যুব সাথী প্রকল্প, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী ইত্যাদির মতো অনেক প্রকল্প রয়েছে। অভিষেক ব্যানার্জী সভায় প্রায় ২৫ মিনিট বক্তব্য রাখেন। এই সময় তিনি বিধান উপাধ্যায় সহ সকল প্রার্থীর বিপুল বিজয়ের আহ্বান জানান এবং বলেন যে একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসই পশ্চিমবঙ্গের সোনালী উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে। জেলা পরিষদ সভাপতি বিশ্বনাথ বৌরি, জেলা পরিষদ কর্ম সভাপতি মোহাম্মদ আরমান, বারাবানি পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য অসিত সিং, সালানপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি ভোলা সিং এবং বিপুল সংখ্যক তৃণমূল কংগ্রেস সদস্য ও নেতা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

