পার্থ প্রতিম চ্যাটার্জী (পূর্ব মেদিনীপুর)

ফাগুন বাতাস বইলে পরে বড্ড মনে পড়ে
তোমার আমার প্রেম কেমনে উঠলো গড়ে!
তখন আমি পঞ্চদশী পরেছি প্রথম শাড়ি
দোলের দিনে এলে হঠাৎ তুমি আমার বাড়ি।
সারা মুখে তোমার বাঁদুরে রং আবির সারা গায়ে
বাড়ির সামনে দাঁড়ালে এসে ভয় জড়ানো পায়ে।
তোমার সাথে ছিলো সেদিন আরো ছেলের দল
ভূত সেজে দাঁড়িয়ে তারাও রং মাখানোর ছল।
দরজায় এসে দাঁড়িয়ে তুমি ডাকলে নাম ধরে
আমার নাম শুনেই আমি লুকিয়ে গেছি ঘরে।
এদিক ওদিক খুঁজতে খুঁজতে পেলে আমায় খুঁজে
তোমার হাতে ধরা পড়ে তখন চোখ দিয়েছি বুজে।
তোমার হাতের আবির আর তোমার দুটি হাত
সারা অঙ্গে আমার মাখালো রং করলে কুপোকাত।
গালে কপালে গলায় ঘাড়ে দিলে রং উজাড় করে
বুকের ভিতরে মাখিয়ে রং রাখলে জড়িয়ে ধরে।
আতঙ্কের প্রবল স্রোতে তখন কাঁপছে আমার মন
তোমার ছোঁয়ায় তনু মন প্রাণে অদ্ভুত শিহরণ।
তোমার বাঁধন ছাড়িয়ে সেদিন গিয়েছি অন্য ঘরে
আগল এঁটেছি ঘরের দরজায় চোখে জল ঝরে পড়ে।
মুখে আর বুকে তোমার ছোঁয়া মনেতে কলরব
কিশোরী মনে জাগিয়ে দিলে বসন্তের উৎসব।
পেয়েছি প্রথম ছোঁয়া সেদিন ছুঁয়েছো শরীর মন
সেই ছোঁয়ার স্মৃতি টুকু নিয়ে বেঁচে আছি অনুক্ষন।
বসন্ত আসে বসন্ত যায় এখনো শূন্য আমার ঘর
বাসন্তী ছোঁয়ায় রাঙিয়ে আমায় তুমি অন্য কারো বর।