বাৎসল্য

গোপা ভট্টাচার্য্য (কলকাতা)

সংসারের ভার সামলে গেছো এতদিন..
বয়সের ভারে ন্যুব্জ আজ তুমি…
আজ তুমি অসহায়, শক্তিহীন,..
যে সন্তানের মুখে বুলি ফুটিয়েছ একদিন যত্ন করে , সে’ ই আজ কু’কথা শোনায় …,
যাকে “হাঁটি হাঁটি পা পা ” করে খুশি মনে হাঁটতে শিখিয়েছ ,
সে আজ তোমার বলহীন শরীরকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে…
তোমায় অবলম্বন করে একটু একটু করে যে বড় হয়েছে , লেখাপড়া শিখিয়েছ ..
ভেবেছো তুমি সে বড় মানুষ হয়েছে, …
সে শরীরে বড় হয়েছে ঠিকই,
কিন্তু তার হৃদয় সংকীর্ণ হয়েছে কবে তুমি বুঝতেই পারোনি,
আজ সে হৃদয়হীন স্বার্থপর একজন…
তোমার অশ্রুও আজ তাকে কষ্ট দেয় না … অথচ একসময় তোমার চোখে জল এলে, তার দু’নয়নও সিক্ত হতো…
আজ বদলেছে সময়,
সে আজ পাষাণ ,
তার নিষ্ঠুর হৃদয়কে বিগলিত করার সাধ্য নেই আর…
তুমি মানুষ করতে চেয়েছিলে যাকে,
সে মানুষ হতে পারেনি,
তবে অমানুষ হতে পেরেছে …
তুমি যাকে সভ্যতার পাঠ পড়িয়েছিলে,
সে সভ্য হতে পারেনি,
তবে অসভ্য হতে পেরেছে ..
যাকে দয়াবান হতে শিখিয়েছ,
সে দয়ালু হতে পারেনি,
তবে স্বার্থপর হতে পেরেছে…
বংশের বাতি বলে যাকে মাথায় তুলে রেখেছিলে,
সে আজ বংশের মান রাখতে না পারুক,
কলঙ্কিত করতে পেরেছে…
তুমিই বলো,
তোমার শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পেরেছে কি সে …
কতটা দুঃখে তুমি আজ জর্জরিত ,সেটা মাপতে পারো কি?
তোমার ক্ষয়ে যাওয়া শরীর , চূর্ণ বিচূর্ণ হওয়া মন নিয়ে তুমি আজ ভঙ্গুর… আজ তুমি রিক্ত…
তবুও সম্পূর্ণ আশা কি ছেড়েছো ? না কি ছাড়তে পেরেছো?
তুমি আজও ভাবছো,
হয়তো একদিন সে তার চেতনা ফিরে পাবে… হয়ত একদিন সে মানুষ হবে… একদিন হয়তো তার শৈশব – কৈশোরের স্মৃতিগুলো মনে পড়বে…
হয়তো সেদিন তার সঠিক পথের সন্ধান পাবে …
সত্যিই তো,
বাৎসল্যের মায়া কি পুরোপুরি ত্যাগ করা যায় ….!
হয়তো যায় না …
তাই শত যাতনা সয়েও কোনো পিতা – মাতা সন্তানের অমঙ্গল চাইতে পারে না ..

বেঁচে থাকবে এই কু ‘সন্তানেরা …
জন্ম – জন্মান্তরেও এরা ‘ কু ‘থেকে ‘সু ‘হতে পারবে না …
দূর্যোধন – দুঃশাসন যেমন ছিল, আছে এবং থাকবে …
ঠিক তেমনি ধৃতরাষ্ট্র – গন্ধারীরাও বেঁচে আছে … এবং থাকবে … !

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *