বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে। বারাবনি বিধানসভার প্রাক্তন বিজেপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ বিজেপি কর্মীদের উপর

কাজল মিত্র: আসানসোল:- 

বারাবনীর মাটিতে আবারও প্রকাশ্যে এল বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব লাঠি পেটার অভিযোগ বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধেই । মাত্র আর কয়েক মাস পরেই হতে চলেছে বিধান সভা নির্বাচন আর এই নির্বাচনের আগেই বিজেপির কর্মীদের গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে এল।

এমনটাই অভিযোগ যে বিজেপির কর্মীর  উপর বিজেপির কর্মীরাই লাঠি পেটা ও মারধর লাথ ঘুষি চালাই। যার পরে আসানসোল উত্তর থানার লিখিত অভিযোগ করে বিজেপির কর্মীরা ।

ঘটনার সম্পর্কে জানা যায় যে  শুক্রবার আসানসোলের দলীয় কার্যালয়ে বারাবনি মণ্ডল–৪-এর সাংগঠনিক বৈঠকে বিজেপির অন্দরের ক্ষমতার রাজনীতির নগ্ন ছবি ফুটে উঠেছে।যা নিয়ে রাজনীতিক মহলে চলছে চর্চা ।অভিযোগ অনুযায়ী, জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্যের ডাকা বৈঠকের মাঝেই হঠাৎ চরম উত্তেজনা ছড়ায়। দলের সংগঠনিক জেলা সাধারণ সম্পাদক অরিজিৎ রায় তাঁর অনুগামীদের নিয়ে বৈঠকে ঢুকে পড়েন এবং প্রকাশ্যেই হামলা চালান বলে অভিযোগ। বাঁশ, ঘুষি ও লাথির আঘাতে গুরুতর জখম হন মণ্ডল সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ অধিকারী। রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে যান চিরঞ্জীব রায় ও সত্যজিৎ দাসও। আক্রান্তদের দাবি, হামলার সময় প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

এই ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন’ বলে মানতে নারাজ দলেরই একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, অরিজিৎ রায়ের বিরুদ্ধে আগেও একাধিকবার কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, হুমকি এবং সাংগঠনিক বৈঠকে দাপট দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। বারাবনি এলাকায় অনেক কর্মীই অভিযোগ করেন, মতের অমিল হলেই ‘শাসন’ দেখানো তাঁর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছেন বিজেপিরই নেতা-কর্মীরা, অভিযুক্ত আবার বিজেপিরই শীর্ষ সংগঠনিক নেতা।

ঘটনার পর আসানসোল উত্তর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন আক্রান্তরা। তবে প্রশ্ন উঠছে—দল কি আদৌ অরিজিৎ রায়ের মতো ‘প্রভাবশালী’ নেতার বিরুদ্ধে কোনও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে, নাকি সবকিছুই ঢেকে যাবে নির্বাচনী অঙ্কের খাতায়?

বিজেপির এই ঘরোয়া কোন্দল নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল।এবিষয়ে বারাবনি ব্লক তৃণমূলের সভাপতি অসিত সিংহ জানান বিজেপির গোটা দল গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জর্জরিত। বিজেপির পরিবর্তন মানে বাইরে সরকার বদলের কথা, আর ভেতরে ক্ষমতার লড়াইয়ে কর্মীদের পিষে ফেলা।”

পরিবর্তনের ডাক দেওয়া দলটির অফিসেই যদি কর্মীরা নিরাপদ না থাকেন, তবে সেই পরিবর্তনের বিশ্বাসযোগ্যতা যে বড়সড় প্রশ্নের মুখে আসানসোলের এই ঘটনা তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত।

এরা নাকি তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করবে। বাংলার মানুষ সব দেখছে।ঐক্যবদ্ধ তৃণমূল এবং রাজ্য সরকারের উন্নয়নের কাছে আগামী নির্বাচনে বিজেপি খড়কুটোর মত ভেসে যাবে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *