নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল:- ভোটের বাদ্যি বাজতেই বঙ্গে নির্বাচনী উত্তাপ তুঙ্গে। নির্বাচন কমিশন নির্ঘণ্ট ঘোষণা করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের ১৪৪টি আসনের জন্য প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে দিল ভারতীয় জনতা পার্টি। আর সেই তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক— বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের পাশাপাশি এ বার খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেও লড়াই করবেন তিনি। অর্থাৎ, ২০২৬-এর মহাযুদ্ধে জোড়া আসনে প্রার্থী হয়ে ঘাসফুল শিবিরের গড়ে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন শুভেন্দু।
এক নজরে বিজেপির প্রথম দফার প্রার্থীতালিকা:
উত্তরবঙ্গ ও সংলগ্ন এলাকা:
কোচবিহার উত্তর থেকে সুকুমার রায়, শীতলকুচিতে সাবিত্রী বর্মন, দিনহাটায় অজয় রায় এবং তুফানগঞ্জে মালতি রাভা রায়কে প্রার্থী করেছে বিজেপি। আলিপুরদুয়ার জেলায় কুমারগ্রাম থেকে মনোজ কুমার ওরাওঁ, কালচিনিতে বিশাল লামা, আলিপুরদুয়ারে পরিতোষ দাস এবং ফালাকাটায় দীপক বর্মন লড়াই করবেন। জলপাইগুড়ি ও শিলিগুড়ি অঞ্চলে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে শিখা চট্টোপাধ্যায়, নাগরাকাটায় পুনা ভেঙরা, মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে আনন্দময় বর্মন এবং শিলিগুড়িতে ডা. শংকর ঘোষের ওপরই ভরসা রাখা হয়েছে। উত্তর দিনাজপুরের ফাঁসিদেওয়ায় দুর্গা মুর্মু, গোয়ালপোখোরে সরজিৎ বিশ্বাস, চাকুলিয়ায় মনোজ জৈন, করণদিঘিতে বিরাজ বিশ্বাস এবং কালিয়াগঞ্জে উৎপল মহারাজ প্রার্থী হয়েছেন। রায়গঞ্জে কৌশিক চৌধুরী এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমন্ডিতে তাপসচন্দ্র রায়, কুমারগঞ্জে শুভেন্দু সরকার ও বালুরঘাটে বিদ্যুৎ রায়কে টিকিট দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তপন থেকে বুধরাই টুডু, গঙ্গারামপুরে সত্যেন্দ্রনাথ রায় এবং হরিরামপুরে দেবব্রত মজুমদার লড়াইয়ে থাকছেন।
মালদহ ও মুর্শিদাবাদ:
মালদহ জেলায় হাবিবপুর থেকে জোয়েল মুর্মু, গাজোলে চিন্ময়দেব বর্মন, চাঁচলে রতন দাস, মালতীপুরে আশিষ দাস, রতুয়ায় অভিষেক সিংহানিয়া, মানিকচকে গৌরচন্দ্র মণ্ডল, মালদহে গোপালচন্দ্র সাহা, মোথাবাড়িতে নিবারণ ঘোষ এবং সুজাপুরে অভিরাজ চৌধুরী প্রার্থী হয়েছেন। মুর্শিদাবাদে সুতিতে মহাবীর ঘোষ, রঘুনাথগঞ্জে সুরজিৎ পোদ্দার, লালগোলায় অমর কুমার দাস, ভগবানগোলায় ভাস্কর সরকার, মুর্শিদাবাদে গৌরীশংকর ঘোষ, রেজিনগরে বাপন ঘোষ, বেলডাঙায় ভরত কুমার ঝাওয়ার, বহরমপুরে সুব্রত মৈত্র, হরিহরপাড়ায় তন্ময় বিশ্বাস, নওদায় রানা মণ্ডল, ডোমকলে নন্দদুলাল পাল এবং জলঙ্গিতে নবকুমার সরকার বিজেপির বাজি।
নদীয়া ও উত্তর ২৪ পরগনা:
নদীয়া ও উত্তর ২৪ পরগনায় করিমপুর থেকে সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ, পলাশীপাড়ায় অনিমা দত্ত, কালীগঞ্জে বাপন ঘোষ, রানাঘাট উত্তর পশ্চিমে পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়, রানাঘাট উত্তর পূর্বে অসীম বিশ্বাস, চাকদায় বঙ্কিমচন্দ্র ঘোষ এবং হরিণঘাটায় অসীমকুমার সরকার লড়াই করবেন। বাদুড়িয়া থেকে সুকৃতি সরকার, আমডাঙায় অরিন্দম দে, নৈহাটিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, ভাটপাড়ায় পবন কুমার সিং, বরানগরে সজল ঘোষ, দেগঙ্গায় তরুণকান্তি ঘোষ এবং বসিরহাট উত্তরে নারায়ণচন্দ্র মণ্ডল প্রার্থী হয়েছেন।
দক্ষিণ বঙ্গ ও জঙ্গলমহল:
দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বাসন্তী থেকে বিকাশ সর্দার, কুলতলিতে মাধবী মহলদার, পাথরপ্রতিমায় অসিত কুমার হালদার, কাকদ্বীপে দীপঙ্কর জানা, রায়দিঘিতে পলাশ রানা, ক্যানিং পূর্বে অসীম সাঁপুই, ডায়মন্ড হারবারে দীপককুমার হালদার, বিষ্ণুপুরে অগ্নিশ্বর নস্কর, বজবজে তরুণ কুমার আদক এবং মেটিয়াবুরুজে বীর বাহাদুর সিং প্রার্থী হয়েছেন। কলকাতার ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারী এবং রাসবিহারীতে স্বপন দাশগুপ্ত লড়াই করবেন।
হাওড়া ও হুগলি অঞ্চলে হাওড়া উত্তর থেকে উমেশ রাই, শিবপুরে রুদ্রনীল ঘোষ, উলুবেড়িয়া দক্ষিণে স্বামী মঙ্গলানন্দ পুরী মহারাজ, আমতায় অমিত সামন্ত, ডোমজুরে গোবিন্দ হাজরা, সপ্তগ্রামে স্বরাজ ঘোষ, তারকেশ্বরে সন্তু পান, পুরশুড়ায় বিমান ঘোষ, আরামবাগে হেমন্ত বাগ, গোঘাটে প্রশান্ত দিঘর এবং খানাকুলে সুশান্ত ঘোষ টিকিট পেয়েছেন।
পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে পাঁশকুড়া পূর্ব থেকে সুব্রত মাইতি, পাঁশকুড়া পশ্চিমে সিন্তু সেনাপতি, ময়নায় অশোক দিন্দা, মহিষাদলে সুভাষ পাঁজা, হলদিয়ায় প্রদীপ কুমার বিজলী, নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী, পটাশপুরে তপন মাইতি, কাঁথি উত্তরে সুমিতা সিনহা, কাঁথি দক্ষিণে অরূপকুমার দাস, রামনগরে চন্দ্রশেখর মণ্ডল এবং দাঁতনে অজিত কুমার জানা প্রার্থী হয়েছেন। জঙ্গলমহলে নয়াগ্রাম থেকে অমিয়া কিস্কু, গোপীবল্লভপুরে রাজেশ মাহাতো, ঝাড়গ্রামে লক্ষ্মীকান্ত সাহু, কেশিয়াড়িতে ভদ্র হেমব্রম, খড়্গপুর সদরে দিলীপ ঘোষ, নারায়ণগড়ে রামপ্রসাদ গিরি, সবংয়ে অমল পান্ডা, খড়্গপুরে তপন ভূঁইয়া, ডেবরায় শুভাশিষ ওম, দাসপুরে তপন দত্ত, ঘাটালের শীতল কপাট, চন্দ্রকোণায় সুকান্ত দোলুই, শালবনিতে বিমান মাহাতো এবং কেশপুরে শুভেন্দু সামন্ত লড়াই করবেন।
বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও বর্ধমান অঞ্চলে বিনপুর থেকে প্রণত টুডু, বান্দোয়ানে লবসেন বাস্কে, বলরামপুরে জলধর মাহাতো, মানবাজারে ময়না মুর্মু, কাশীপুরে কমলকান্ত হাঁসদা, পারায় নাদিয়ার চাঁদ বাউরি, রঘুনাথপুরে মামনি বাউরি, শালতোড়ায় চন্দনা বাউরি, ছাতনায় সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়, রানিবাঁধে ক্ষুদিরাম টুডু এবং রায়পুরে ক্ষেত্রমোহন হাঁসদা প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়াও তালড্যাংরায় সৌভিক পাত্র, বড়জোড়ায় বিলেশ্বর সিনহা, ওন্দায় অমরনাথ শাখা, কোতুলপুরে লক্ষ্মীকান্ত মজুমদার, ইন্দায় নির্মল কুমার ধারা, সোনামুখীতে দিবাকর ঘরামি, রায়নায় সুভাষ পাত্র, জামালপুরে অরুণ হালদার, মন্তেশ্বরে সৈকত পাঁজা, বর্ধমান উত্তরে সঞ্জয় দাস, ভাতারে সোমেন করফা, কেতুগ্রামে অনাদি ঘোষ (মথুরা), আউশগ্রামে কলিতা মাজি, পান্ডবেশ্বরে জিতেন্দ্র কুমার তিওয়ারি, দুর্গাপুর পূর্বে চন্দ্রশেখর ব্যানার্জি, দুর্গাপুর পশ্চিমে লক্ষ্মণচন্দ্র ঘোড়ুই, জামুরিয়ায় বিজন মুখোপাধ্যায়, আসানসোল দক্ষিণে অগ্নিমিত্রা পাল, আসানসোল উত্তরে কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় এবং কুলটিতে অজয়কুমার পোদ্দার লড়াই করবেন। বীরভূমের দুবরাজপুর থেকে অনুপকুমার সাহা, সিউড়িতে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, বোলপুরে দিলীপকুমার ঘোষ, নানুরে খোকন দাস, ময়ূরেশ্বরে দুধকুমার মণ্ডল এবং হাঁসনে নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হয়েছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দুকে মমতার খাসতালুকে প্রার্থী করে বিজেপি স্পষ্ট বার্তা দিল যে তারা এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ। পাশাপাশি দিলীপ ঘোষকে নিজের পুরনো দুর্গ খড়্গপুর সদরে ফিরিয়ে আনাও তাৎপর্যপূর্ণ।

