বিদ্যাসাগরের ২০৬তম জন্মজয়ন্তীতে সম্প্রীতির মানবিক দৃষ্টান্ত

ভাস্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: শরৎকালের নরম রোদে আজ কাওয়াখালীর আপনা ঘর বৃদ্ধাশ্রমে জমল ভিন্ন আবহ। কারণ আজই পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০৬তম জন্মজয়ন্তী। সমাজসেবার মহান আদর্শকে সামনে রেখে সামাজিক সংগঠন সম্প্রীতি আয়োজন করল এক অনন্য কর্মসূচি।

সকাল দশটা থেকেই শুরু হয় অনুষ্ঠান। প্রায় ৮৫ জন প্রবীণের হাতে তুলে দেওয়া হয় প্রাতঃরাশ ও নতুন শীতবস্ত্র। আশ্রম চত্বর মুহূর্তেই ভরে ওঠে হাসি আর উচ্ছ্বাসে। শুধু খাবার বা চাদর নয়—সম্প্রীতির সদস্যরা গান, আড্ডা আর খুনসুটিতে কাটালেন দীর্ঘ সময়। প্রবীণদের জীবনের গল্প শোনার মুহূর্তে চোখে জল যেমন ঝরল, তেমনই মুখে ফুটল আনন্দের আলো।

সংগঠনের সভাপতি জয়ন্ত কর বলেন, “বিদ্যাসাগরের জন্মদিনে তাঁর আদর্শকে অনুসরণ করে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। সকালের নাশতা ও শীতবস্ত্র বিতরণ তো হয়েছেই, আগামী দিনে দুপুরে এসে আরও সময় কাটাতে চাই প্রবীণদের সঙ্গে। সমাজকে আমরা জানাতে চাই—বৃদ্ধ বাবা-মায়েরা বোঝা নন, তাঁরা আমাদের সম্পদ। তাঁদের সম্মান দিলে আমরাও সম্মানিত হই।”

বিদ্যাসাগরের দর্শন ছিল— “মানবসেবা সর্বোত্তম ধর্ম”। তাঁর দেখানো পথেই সম্প্রীতি আজ বার্তা দিল—প্রবীণরা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাঁদের সম্মানেই সমাজের মর্যাদা।

পুজোর আগে এরকম উদ্যোগ নিঃসন্দেহে এক বড় উদাহরণ। এটি শুধু এক সকালের আয়োজন নয়, বরং এক স্পষ্ট বার্তা— “প্রবীণরা অবহেলার পাত্র নন, তাঁরাই আমাদের মেরুদণ্ড। তাঁদের সম্মান জানানোই আমাদের সত্যিকার কর্তব্য।”

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *