রাকেশ লাহা, জামুড়িয়া, পশ্চিম বর্ধমান :-
কেন্দ্রীয় সরকারের এস আই আর চক্রান্তের বিরুদ্ধে শুক্রবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার জামুরিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো তৃণমূলের প্রতিবাদ সভা। যেখানে মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী স্নেহাশীষ চক্রবর্তী, রাজ্যের আইন, বিচার এবং শ্রম মন্ত্রী মলয় ঘটক এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলার চেয়ারপার্সন তথা জামুরিয়ার বিধায়ক হরেরাম সিং এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য নেতৃত্বরা।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য আজ থেকে বেশ কয়েকদিন আগে জামুরিয়ায় অনুষ্ঠিত হয় ভারতীয় জনতা পার্টির কর্মী সম্মেলন যেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, ঠিক তারপরেই তৃণমূলের পাল্টা প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হলো জামুরিয়ায়।
এদিনের প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত মন্ত্রী মলয় ঘটক তার বক্তব্যে তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় সরকারের নানান বঞ্চনামূলক কর্মকাণ্ডের কথা। দিন দিন মোদি সরকার যেভাবে সরকারি সম্পত্তি বিক্রি করে দিচ্ছেন তার প্রতিবাদে
সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়ে বলেন এর যোগ্য জবাব আমাদের ২৬শে নির্বাচনে দিতে হবে। তিনি বিজেপিকে মিথ্যাচারের দল বলে মন্তব্য করেন। মন্ত্রীর কথাই বিজেপি নেতারা নির্বাচনের আগে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং নির্বাচনের পর তাদের আর দেখা যায় না।
অন্যদিকে আবার মন্ত্রী মলয় ঘটক মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের কথা তুলে ধরতে গিয়ে বাংলার রূপকার তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের প্রসঙ্গ তুলে আনেন। তিনি বলেন বিধানচন্দ্র রায় বাংলার রূপকার হলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার নব রূপকার।
এদিকে মঞ্চে উপস্থিত রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশিষ চক্রবর্তী মাইক হাতে নিয়েই বলেন, বিজেপি চেয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর করে পশ্চিমবঙ্গের প্রকৃত ভোটারদের বাতিল করে দেবেন, এছাড়াও বিজেপির নেতারা দাবি করেছিল এস আই আরের পর এক কোটি রোহিঙ্গা বাংলাদেশি বাদ যাবে বাংলা থেকে। কিন্তু খসড়া তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর যে দৃশ্য সামনে এলো তাতে এবার মাথায় হাত পড়েছে বিজেপির।
অন্যদিকে আবার বিজেপির কর্মী সম্মেলন থেকে শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে জামুরিয়ার বিধায়ক এবং বিধায়ক পুত্রকে আক্রমণ করেছিলেন তার বিরুদ্ধে এদিনের প্রতিবাদ সভা থেকে পাল্টা জবাব দেন বিধায়ক হরে রাম সিং। তিনি বলেন জামুড়িয়ার কারখানায় সিন্ডিকেট রাজ চলেনা, যদি প্রমাণ করতে পারে বিজেপি যে জামুড়িয়ার কারখানায় সিন্ডিকেট রাজ চলছে তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেবো। তবে পরমুহুর্তেই তিনি স্বীকার করেন জামুরিয়া বালি চলে কিন্তু সেই বালির সরকারি অনুমোদনেই চলে, এবং সরকারকে ট্যাক্স দেওয়া হয়।
তবে ২৬ এর হাইভোল্টেজ নির্বাচনের আগে জামুরিয়ার বুকে তৃণমূল কংগ্রেসের এদিনের প্রতিবাদ সভায় কর্মীদের উপস্থিতি কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল ।।