বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে ৩ বছরের শিশু কন্যাকে আছড়ে ফেলে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রেমিক যুগল

বাইজিদ মন্ডল: ডায়মন্ড হারবার:- পরকীয়ার পরিণতি! নতুন জীবন শুরুতে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল তিন বছরের  শিশু কন্যাসন্তান। পরিকল্পিত ভাবে প্রেমিকের হাত ধরে ওই মা তার শিশু সন্তানকে নিয়ে ডায়মন্ড হারবার থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ চলে গিয়েছিল। প্রেমিকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সেখানেই আছড়ে মেরে খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠলো মায়ের বিরুদ্ধে,সেই অভিযোগে দু’জনকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বছরখানেক আগে পারুলিয়া কোস্টাল থানার সরিষা অঞ্চলের কামার পোলের বাসিন্দা নাজিরা বিবির সঙ্গে রায়দিঘির বাসিন্দা,পেশায় একটি বেসরকারি রুটের বাস কন্ডাক্টর তাজউদ্দিন মোল্লার অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে,নাজিরা বিবি একটি কারখানায় কাজ করতে যেত। বাসে যাতায়াতের সময় তাজউদ্দিনের সঙ্গে তার আলাপ ও পরে ঘনিষ্ঠতা হয়। কিছুদিন আগে তিন বছরের শিশুকন্যাকে নিয়ে নাজিরা বিবি বেপাত্তা হয়ে যায়। তাঁর স্বামী আজহার লস্কর স্ত্রী নাজিরা বিবি নিখোঁজ বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অপহরণের মামলা দায়ের করে তদন্তে নামে। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য,পুলিশের অভিযোগ অন্ধপ্রদেশের কোট্রেনিকন্যা থানা এলাকায় নিয়ে গিয়ে শিশু কন্যাকে হত্যা করা হয়। প্রথমে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন নাজিরা ও তাজউদ্দীন দুজনে। সেই মতো ময়নাতদন্তের পরে সেই শিশুর দেহ কবরস্থ করা হয় সেখানেই। কিন্তু শিশুটির বাবা অর্থাৎ নাজিরার স্বামী আজাহার লস্করের এই বিষয়টিতে সন্দেহ হওয়ায় তিনি ডায়মন্ড হারবার কোস্টাল থানার (ওসি আসাদুল ইসলাম) পুলিশের কাছে অভিযোগ জানায়। আর আজহারের সেই অভিযোগ দায়ের করতেই,তাতেই ফাঁস হয়ে যায় তিন বছরের কন্যার মৃত্যুর আসল রহস্য। পুলিশের একটি বিশেষ দল অন্ধ্রপ্রদেশের রাজামুন্দ্রি জেলা কোট্রেনিকন্যা থানা এলাকায় গিয়ে ওই প্রেমিক যুগলের সন্ধান পায় এবং তাদের দুজনের টানা জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে, তারা সেই সময় কবুল করে নেয়,ওই শিশুকে আছড়ে মেরে খুন করা হয়েছে। রাজামুন্দ্রি জেলার কোট্রেনিকন্যা থানায় কেবল একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছিল।ডায়মন্ড হারবার জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিতুন দে জানান,অভিযুক্ত নাজিরা অন্তঃসত্ত্বা,এবং সে দাবি করে তার ওই গর্ভে থাকা সন্তান তাজ উদ্দিনের। সেই কারণে তাজ উদ্দিনের সঙ্গে সংসার শুরুর তাড়নায়,আগের পক্ষের সন্তানকে পরিকল্পিত ভাবে খুন করেছে তারা দুজনে। অভিযুক্তরা খুন শিকার করার পর তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে,এবং তাদের ট্রানজিট রিমান্ডে এই জেলায় আনা হচ্ছে বলে জানান পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *