বিভিন্ন দাবি নিয়ে কর্মরত শ্রমিকদের বিক্ষোভ এমএসপিএল কারখানার গেটের সামনে

কাজল মিত্র, সালানপুর:- শ্রমিকের উপর অত্যাচার ও অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করার প্রতিবাদে সালানপুর ব্লকের এমএসপিএল কারখানা গেটের সামনে কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে কর্মরত শতাধিক শ্রমিক। সেই সব শ্রমিকদের মূলত দাবী এম এস পি এল কারখানার ম্যানেজমেন্ট তাদের উপর বিভিন্নভাবে অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে, একই সাথে আট ঘন্টার পরিবর্তে ১২ ঘন্টা কাজ করিয়েও ন্যূনতম বেতন তারা পাচ্ছেন না, তাছাড়া ছুটির পরেও তাদের ওভার টাইম কাজ করতে বলা হচ্ছে কিন্তু ওভার টাইম আর বেতন মূল্য তারা পাননা ।আর কাজ না করলে বিভিন্ন রকম গালিগালাজ করে কাজ থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

এদিন কর্মরত এক শ্রমিক জানান তিনি বিগত ছয় মাস ধরে এই কারখানায় কাজ করে আসছে। সেই ওইখানে মেস সামলানোর কাজ করে কারখানার কর্মরত সিকিউরিটি ইনচার্জ লালবাবু নামক এক ব্যক্তি তাকে ছুটির পরও বিভিন্ন কাজের আদেশ দেন, কিন্তু সে তার ছুটির পর বাড়ি যাবার কথা বললে তাকে গালাগালি দিয়ে কারখানা থেকে বের করে দেবার হুমকি দেয় । এমনই বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে তারা শনিবার কারখানার গেটের সামনে অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। এই বিক্ষোভ চলাকালীন ঘটনাস্থলে  উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষের সদস্য বৃন্দ। এদিন বাংলা পক্ষের জেলা কমিটির সদস্য ভাস্কর মুখার্জি জানান তারা আজকে স্থানীয় শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদ জানাতে এই কারখানা গেট বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখান। তারা জানান এলাকায় বহু যুবক বেকার রয়েছে কিন্তু কারখানা গুলিতে বাইরে থেকে শ্রমিক এনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ।আর লোকাল যুবককে কাজে নেওয়া হচ্ছে না । কাজে রাখলেও একদুই মাস পর তাদের উপর কারখানা কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ভাবে অত্যাচার চালিয়ে যায় যাতে তারা কাজ ছেড়ে দেয়। অথচ এই স্থানীয় শ্রমিকদের বেতন মূল্য অনেকটাই কম । তাদের ১২ ঘণ্টা পরিশ্রম করতে হয় ।কিন্তু নিয়মে বলা রয়েছে আর ঘন্টার বেশি কাজ করতে দেওয়া যাবে না। আর ঘণ্টার বেশি কাজ করলে তাকে ওভারটাইম বেতন দিতে হবে। কিন্তু এই কারখানায় সেসব কিছুই করে না । তাছাড়া বাঙ্গালীদের উপর অত্যাচার লেগেই রয়েছে, এই সকল বিভিন্ন দাবি নিয়ম তারা আজকে এমএসপিএল কারখানা গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখায়। 

তবে বেশ কিছুক্ষণ বিক্ষোভ দেখানোর পর কারখানা কর্তৃপক্ষ এইচ আর হেড  এসে তাদের সাথে কথা বলেন এবং ঘটনা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন একই সাথে তিনি জানান কারখানার উচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে সমস্ত দিক বিচার বিবেচনা করে দেখবেন এবং তাদের দাবি মানা হবে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *