বিশ্ব পরিবেশ দিবস- বিদ্যালয়ের উদ্যোগে গ্রীষ্মকালীন শিবির

নীহারিকা মুখার্জ্জী: নদীয়া:- বিদ্যালয়ের সিলেবাসে 'প্রকল্প রূপায়ণ' এর অংশ হিসাবে পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়টি থাকলেও সেটি বাড়িতে বসেই ছাত্রছাত্রীরা খাতায় লিখে নেয়। তাদের ব্যবহারিক কোনো অভিজ্ঞতা থাকে না। এবার তাদের জন্য অভিনব উদ্যোগ নিল নদীয়ার 'জাগুলি নেতাজী বিদ্যাপীঠ'। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও স্কুল শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ৫ ই জুন অর্থাৎ বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বিদ্যালয়ের পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য 'সামার প্রজেক্ট' এর আয়োজন করা হয়। তারই অঙ্গ হিসাবে শতাধিক ছাত্রছাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষক শিক্ষিকারা বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী একটি এলাকায় যান। উন্মুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে একটি পুকুর, তার চারপাশে সবুজ - সবমিলিয়ে এক অসাধারণ পরিবেশ। ওরকম একটা মনোরম পরিবেশে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাকৃতিক পরিবেশের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বুঝিয়ে বলা হয়। পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি ওদের হাতে বেশ কয়েকটি চারাগাছ তুলে দেওয়া হয়। মনের আনন্দে সেগুলি ওরা পুকুর পাড়ে রোপণ করে। বিদ্যালয়ের চারদেওয়ালের বাইরে বেরিয়ে খোলা আকাশের নীচে এই হাতে-কলমে শিক্ষালাভ শিক্ষার্থীরা প্রাণভরে উপভোগ করে। তাদের প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর উৎসাহ দূর থেকে দেখলে মনে হবে একদল রঙিন প্রজাপতি মনের আনন্দে ফুলে ফুলে উড়ে বেড়াচ্ছে। বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েরা বুঝতে পারে বর্তমান পরিস্থিতিতে সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে হলে সবচেয়ে আগে দরকার বৃক্ষরোপণ করা। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এই শিবিরটি পরিচালনা করেন শিক্ষক অখিল পাল, তন্দ্রা চক্রবর্তী, শুভদীপ সরকার, শংকর মন্ডল, দেবাশীষ ধর ও সঞ্চিতা সিকদার প্রমুখ। উৎসাহ দিয়েছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ভূষণ দেবনাথ। সঞ্চিতা দেবী বলেন - কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুঁথিগত শিক্ষার পরিবর্তে হাতে-কলমে শিক্ষা অনেক বেশি ফলপ্রসূ হয়ে ওঠে। আজ খোলা আকাশের নীচে শিক্ষার্থীরা যে শিক্ষা লাভ করল তাতে আমরা আশাবাদী এদের হাত ধরে পৃথিবী আবার সুস্থ হবে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *