বিসর্জনের আলো

রাই প্রিয়া (ক্যানিং, দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা)

মা, আজ গোধূলিসন্ধ্যার সিঁদুরাভ আচ্ছাদনে নেমেছে বিষণ্ণতার অদৃশ্য পর্দা,
ঢাকের অন্তিম ধ্বনিতে ঝরে পড়ে সাঁঝের শোকবাষ্প।
শঙ্খনিনাদে দোলে এক অন্তিমাবসানের করুণ গুঞ্জন—
তুমি চলে যাচ্ছো, তবু মন তোমাকে চায় চিরকাল, অনন্ত, অক্ষয়।

মা, আজ তোমার চরণপদ্মে অর্পণ করি—
যতো ভয়, হিংসা, লালসা, ক্রোধের দহনানল,
যেন বিসর্জনজলেই নিমগ্ন হয় অন্ধকারের সকল মলিনতা,
মর্ত্যলোকে বিচরণকারী অসুরেরা নিপাত যাক, তোমা সহিত মহাসমুদ্রগর্ভে।

যে হৃদয় অনাদরের কঠিন শিলারূপে জমাট,
তাতে আসুক বর্ষাও করুণাধরার জলরাশি ,
যে চোখ অশ্রুহীন, তাতে দাও মায়াবর্ষার স্পর্শ কাজল,
দীনার্ত অসহায়ের অন্ধকার ঘরে জ্বলে উঠুক দীপান্বিতা।

তুমি চলে যাচ্ছো মা, তবু মানবপ্রাণে রেখে যেও
এক দিশারী আলোকবীজ—
যেন প্রতিদিনের ঘনতম তমঃকুন্দলী,
উদ্ভাসিত হয় তোমার শক্তির দীপ্তিমন্ত্র, করুণার গাথা।
মা, তুমি নিয়ে যাও—
সব অশুভ, সব মলিনতা,, সব কলুষকাল,
আমাদের অন্তরে রেখে যাও কেবল তোমার অনিঃশেষ করুণাধারার অলৌকিক আলোকপ্রবাহ।

বিসর্জন জলে বিলীয়মান হোক – অহংকার, মিথ্যাবাদ, বিদ্বেষ ছলনা,,
রহে যেও কেবল পবিত্র প্রেমশিখা,
যা তোমারই অক্ষয় আশীর্বাদ রূপে,
জ্বলে উঠুক অনন্তকাল..।।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *