বুদবুদ থানার নব নিযুক্ত আধিকারিক মনোরঞ্জন মণ্ডল এর বাড়ী সহ একাধিক জায়গায় ইডির তল্লাশি

কাজল মিত্র: আসানসোল:- পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই চলছে ইডির হানা।কলকাতা, দুর্গাপুর, আসানসোল থেকে দিল্লি পর্যন্ত এই অভিযান, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে। 

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর একদল অফিসার হানা দিয়েছে বুদবুদ থানার নবনিযুক্ত ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে। এখনও থানার চেয়ারে বসার সুযোগ পাননি তিনি, তার আগেই ইডির এই হাই-ভোল্টেজ অভিযানে জেলাজুড়ে ছড়িয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা। 

সূত্রের খবর অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল থেকেই ইডির দল মনোরঞ্জন মণ্ডলের দুর্গাপুরের বাড়িতে ঢুকে পড়ে। নথিপত্র, আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড—সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। বাড়ির বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন, যেন কোনও ফাঁক না থাকে। কিন্তু কেন এই অভিযান? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কয়লা ও বালি স্মাগলিং-এর আর্থিক অনিয়মের সূত্র ধরেই এই ধরপাকড়। এটি আলাদা একটি তদন্ত, যা গত মাসে কলকাতায় আই-প্যাক অফিসে চালানো কয়লা কেলেঙ্কারির থেকে পৃথক। 

মনোরঞ্জন মণ্ডলের অতীত যেন একটা কালো অধ্যায়। গত বছর, ২০২৪-এর নভেম্বরে, বারাবনি থানার ওসি থাকাকালীন তাঁকে সাসপেন্ড করা হয় দুর্নীতি ও অবৈধ কয়লা-বালি স্মাগলিং-এ সহায়তা করার অভিযোগে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছিলেন, যার পরদিনই এই সাসপেনশন। পরে তাঁকে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের স্পেশাল ব্রাঞ্চে যুক্ত করা হয়। সম্প্রতি বুদবুদ থানার দায়িত্ব দেওয়া হলেও, থানায় যোগ দেওয়ার আগেই ইডির এই ধাক্কা।

শুধু মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতেই নয়, জেলার বিভিন্ন প্রান্তে কয়লা ও বালি ব্যবসায়ীদের ঘরেও চলছে ইডির তল্লাশি। দুর্গাপুরের সেপকো এলাকায় বালি ব্যবসায়ী প্রবীর দত্ত (কে কে মিনারেলসের মালিক, যাঁর বাঁকুড়া, পশ্চিম ও পূর্ব বর্ধমানে বালি খনি আছে, পানাগড়ে অফিস) এবং তাঁর ভাই অমিত দত্তের বাড়িতে অভিযান। পানাগড়ে শেখ হাসিম মির্জা বেগ, আন্ডুলের ভক্তরনগরে শেখ কিরণ মণ্ডল,পান্ডবেশ্বরে কয়লা ব্যবসায়ী শেখ মাইজুল—সবার ঘরে ইডির হানা। 

যদিও এই ঘটনায় ইডির পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয় নি।  কিন্তু জেলায় উত্তেজনার পারদ চড়ছে। রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবাই প্রশ্ন তুলছেন, এই তদন্ত কোথায় গিয়ে থামবে? কয়লা-বালির কালো ধোঁয়ায় কি আরও বড় নাম উঠে আসবে?

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *