ভাবার বুঝি সময় হল

মুনমুন মুখার্জ্জী (বার্ণপুর, পশ্চিম বর্ধমান)

ছিলাম, এক সময় আমরা সবাই ভারতীয়ই ছিলাম…
আজও ভারতের মানচিত্রটা ঠিক একই আছে–
তবু চিত্রগুলো টুকরো টুকরো হয়ে বদলে গেছে।
বাঙালি বিহারী ওড়িয়া গুজরাটি কথায় কথায় জাত ধরে টানাটানি…
জাতিতে জাতিতে ধর্মে ধর্মে এই বিভেদ আজ নতুন নয়…
বরং ভেদাভেদের আগুনে ঘি ঢালার চেষ্টার হয়েছে বার বার।
ইংরেজরা বাংলার সীমান্ত দুভাগে ভাগ করলেও মনটা একই ছিল,
আজ জাতি ধর্মে বিভক্ত হয়ে বাঙালিদের মধ্যেই কত মতভেদ–
হিন্দু বাঙালি মুসলিম বাঙালি নিয়ে তর্ক চলছে জোর কদমে–
ভেদাভেদ দেখি ভদ্রলোক ও প্রান্তিক বাঙালির মধ্যেও;
এখন প্রান্তিক খেটে খাওয়া মানুষদের নিয়ে চলে “চায়ের পে চর্চা”..
গল্প কবিতা ছায়াছবি বা চিত্রশিল্পে জনপ্রিয় বিষয় “ওরা”।
কিন্তু দুর্ভাগ্য “ওরা”ও আজ কয়েকটা ভাগে বিভক্ত
রাজ্যে বসবাসকারী ও প্রবাসে বসবাসকারী কৃষক শ্রমিক..
প্রবাসে আছে বলেই ওরা প্রবাসী নয়, ওরা পরিযায়ী শ্রমিক–
প্রবাসী হলেন যাঁরা অন্য রাজ্যে মোটা মাইনের চাকরি করেন।
সেবা তো তাঁরাও করে পরিযায়ী শ্রমিকদের মতোই–
পার্থক্য, তাঁরা ভদ্রলোক, আমাদেরই আত্মীয়-স্বজন।
মণিপুর হাতরাসের ঘটনায় চুপ থেকেছি বাংলার অনেকেই..
পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচারেও মুখে কুলুপ এঁটেছি..
নিজেদের শান্তনা দিতেই হিন্দু মুসলিমের ভেদাভেদ করেছি…
ভাবি, ভদ্রলোকদের কি আর ওসব বিতর্কে জড়ানো সাজে?
ভুলে যাই, ক্ষমতাবানের হাতে নিজের লোকও রেহাই পায় না–
কাল দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে কেউই বাঁচাতে আসবে না।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *