মিড ডে মিলের চাল চুরির অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে !! ফের শিরোনামে বেলডাঙ্গা আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়

রাকেশ লাহা, জামুড়িয়া, পশ্চিম বর্ধমান :-

বিদ্যালয় চত্বরে নেশা দ্রব্য সেবন থেকে শুরু করে ছাত্র-ছাত্রীদের পচা মাংস খাওয়ানোর অভিযোগে  একাধিকবার সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে জামুরিয়ার বেলডাঙ্গা আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম। আর সেই অভিযোগের আঙুল বারবার চিহ্নিত করেছে প্রধান শিক্ষককে।

 অভিভাবকদের রোষের মুখে এবং প্রশাসনিক চাপে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক। তবুও অভিভাবক মহলে বিশ্বাস জোগাতে পারেননি প্রধান শিক্ষক রামপ্রসাদ মুহুরী। 

এর আগে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা আস্তে আস্তে ভুলতে বসেছিল স্থানীয় বাসিন্দা এমনকি পড়ুয়াদের অভিভাবকরা, স্বাভাবিকভাবেই চলছিল বিদ্যালয় এর কার্যকলাপ। কিন্তু মঙ্গলবার সকালের ঘটনায় আরো একবার শিরোনামে উঠে এলো বেলডাঙ্গা আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম।

 এবার আর নেশাদব্য সেবন করে প্রধান শিক্ষকের মাতলামি, এমনকি পচা মাংস রান্না করে খাওয়ানোর অভিযোগ নয় এবারে অভিযোগ বিদ্যালয়ের ক্ষুদে পড়ুয়াদের জন্য বরাদ্দ করা মিড ডে মিলের চাল চুরি  করছিলেন প্রধান শিক্ষক। আর সেই চুরির বিষয়টি মঙ্গলবার  হাতেনাতে ধরে ফেলে স্থানীয় বাসিন্দারা এমনটাই সূত্র মারফত উঠে আসছে। 

পরে যখন প্রধান শিক্ষককে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি নিয়ে জানতে চান তখন নাকি প্রধান শিক্ষক জানাই স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ধনঞ্জয় গোপকে বিষয়টি আমি জানিয়েছি। তবে এ বিষয়ে ধনঞ্জয় গোপ জানাই আমাকে তেমন কিছুই জানানো হয়নি। প্রধান শিক্ষক পুরোটাই মিথ্যে কথা বলছেন। 

তারপরই ফের আরো একবার প্রধান শিক্ষকের চাল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো অগ্নিগর্ভে পরিণত হলো বিদ্যালয় চত্বর। তবে স্থানীয় এবং অভিভাবকদের বিক্ষোভের হাত থেকে রক্ষা পেতে আগে ভাগেই বিদ্যালয় থেকে চম্পট দিয়েছে প্রধান শিক্ষক। তবে স্থানীয় অভিযোগে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে ফোন মারফত যোগাযোগ করা হলে তিনি জানাই আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠছে যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। প্রধান শিক্ষকের কথায় বিদ্যালয়ের বেশ কয়েক বস্তা চাল নষ্ট হয়ে গিয়েছিল সেই কারণেই আমি বিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে সেগুলি ফেলে দিয়েছি, বর্তমানে স্থানীয়রা আমাকে চাল চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত করছেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

অন্যদিকে আবার ঘটনা প্রসঙ্গে বেলডাঙ্গা আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিষ্ণুদাস মন্ডল জানাই, বিষয়টি আমরা চুরির মতন করে দেখছি, কেননা বিদ্যালয়ে চাল বিক্রি করার কোন নিয়ম নেই। 

তিনি জানান আজ আমাদের ব্লক স্তরের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলছিল যেখানে আমরা স্টুডেন্টদের নিয়ে উপস্থিত ছিলাম, কিন্তু হঠাৎই স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পাই যে আমাদের বিদ্যালয় থেকে চাল চুরি হয়েছে, তড়িঘড়ি বিদ্যালয়ে এসে দেখি যে বিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে বেশ কয়েক বস্তা চাল পড়ে রয়েছে। পাশাপাশি তিনি এও জানাই বিদ্যালয়ে চাল নষ্ট হয়ে গেলে সেটি আমাদেরকে উচ্চ দপ্তরে জানাতে হয় সেটা না করে সেই চাল বিক্রি করছিলেন প্রধান শিক্ষক এমনটাই আমি জানতে পারি স্থানীয়দের কাছ থেকে। আমরা এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাই। 

অন্যদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক অভিভাবক জানাই, প্রধান শিক্ষক রামপ্রসাদ মহুরি এবং এক লোহা ব্যবসায়ী যৌথ উদ্যোগে বিদ্যালয়ের গোডাউন থেকে কয়েক বস্তা চাল বাইরে বের  করে ওই লোহা ব্যবসায়ীকে বিক্রি করার পরিকল্পনা নিয়েছিল প্রধান শিক্ষক। কিন্তু আমরা হাতেনাতে ধরে প্রধান শিক্ষকের চাল বিক্রির ছক ভেস্তে দিয়েছি। 

বারংবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কেন এ ধরনের কার্যকলাপ চালাচ্ছেন বিদ্যালয়ের মধ্যে ? আমরা এর উত্তর চাই ।

তবে এদিনের উত্তেজনাময় ঘটনার খবর জানতে পেরে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে  জামুরিয়া থানার কেন্দাফাঁড়ির পুলিশ এবং জামুরিয়া পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ জগন্নাথ গোপ পৌঁছে অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে সঠিক তদন্তের আশ্বাস দেন। 

বর্তমানে চাল চুরির ঘটনায় আরো একবার বেলডাঙ্গা আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠলো অভিভাবক মহলে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *