শর্মিষ্ঠা দত্ত (কলকাতা)

উচ্চ নিনাদে সুউচ্চ পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝোড়া,
মনের আনন্দে বইতে বইতে চলছিল আপন খেয়ালে।
রোমাঞ্চকর চলন খুশীতে আত্মহারা,
নিচে দাঁড়িয়ে এক ভয়াল প্রস্তর খন্ড,
তার গভীর গর্তে আটকে গেলো জলরাশির কিয়দংশ,
তার গতি রুদ্ধ হলো,
দম ওষ্ঠাগত তার,
জমতে লাগলো স্তরে স্তরে কুৎসিত শ্যাওলা,
ছোট ছোট এককোষী প্রাণী।
না! আর কিছুতেই ভালো লাগছে না।
কিছু দূরে বয়ে যাওয়া কুলু কুলু শব্দ তার কানে আসছে।
চিৎকার করে বলছে জল রাশি, ‘হে সাথী আমাকে নিয়ে চলো, কথা দিয়েছিলে আমাকে নিয়েই এগিয়ে চলবে।’
ঝোড়ার প্রচন্ড গর্জনে বন্দী জলরাশির কান্না কোথায় মিশে গেল।
অনন্তকাল বন্দি সে।
মহাবিশ্ব শুনলো তার চিৎকার।
এক মেঘ ভাঙ্গা বৃষ্টিতে ভেসে গেল অনেক কিছুই।
ভেসে গেল প্রস্তরখন্ডে বহুকাল ধরে আটকে থাকা জলরাশি,
নবসাথীদের সাথে নদীতে, মোহনাতে আর পরিণামে সাগরে।
যেখানে বহু যুগ ধরে তার যাবার সাধ ছিল।