যদি লিখতে পারতাম…

মৌমিতা মৌ (কলকাতা)

যদি একটা কবিতা লিখতে পারতাম,
বহুদিনের ইচ্ছেটা হয়তো আর কাঁটার মতো বিঁধত না।
হৃদয়ের ভেতর জমে থাকা শব্দগুলো
হয়তো রূপ নিতো নদীর ঢেউয়ে,
কেউ দেখলে বলতো–“কেমন জেগে উঠেছে কবিসত্তা
এই তো, এতদিনে তুমি বললে কবিত্বের ভেতরের কথা।”

আমি শুধু চাই একটা কবিতা,
অলঙ্কার নয়, ছন্দের কারুকাজ নয়–
শুধু নিঃশ্বাসের মতো সত্যি ও স্বাভাবিক কিছু লাইন,
যেখানে মানুষের ক্লান্ত মুখ,
চাকরির অনিশ্চয়তায় ভাঙা স্বপ্ন,
অসহায় মানুষের নীরব দীর্ঘশ্বাস, ব্যর্থতার স্মৃতিসৌধ
হয়তো সফল একাকার হবে হাড়ভাঙা খাটুনির পরে।

সেই কবিতায় থাকত
গাছেদের কান্না, নদীর খিদে-তেষ্টা,পাহাড়ের অপেক্ষা,
শুকিয়ে যাওয়া মাটির বুকের আর্তি,
ঝড়ে উড়ে যাওয়া পাখির ভয়।
প্রকৃতির প্রতিটি ব্যথা
হয়তো শব্দ হয়ে উঠে দাঁড়াত,
আমার কলমের অদৃশ্য সাক্ষ্যে।

যদি একটা কবিতা লিখতে পারতাম—
তাহলেই হয়তো নিজেকেই পড়ে ফেলতাম
প্রথমবারের মতো,লাইব্রেরীর বইয়ের হাতবদলে,
হাসির বুকে জমাট বাঁধা কান্না
অনায়াসেই বেরিয়ে আসতে পারত সেই কবিতার কথায়।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *