যাদুর কাঠি

অনন্যা হালদার (মুকুন্দপুর, কলকাতা)

 পিউ এবং পূজা যমজ। ওদের দু'জনের মধ্যে খুব ভাব। একজনকে ছাড়া আর একজন যেন থাকতেই পারে না। ওদের জন্মের সময় মা মারা যায়। এক বছর যেতে না যেতেই বাবাও ওদের ছেড়ে ওপারে চলে যায়। পিউ-পূজা তার পিসি-ঠাম্মার কাছে বড়ো হচ্ছে। প্রিয়জনদের ভালোবাসা থেকে একেবারেই বঞ্চিত। তার মায়ের আত্মা যেন চরকাবুড়ি সেজে পিউ -পূজাকে ভালোবেসে রোজ রাতে গল্প শুনিয়ে যায়। সে'দিন রাতে পিউ ডাকছে পূজাকে।
  • পূজা! এই পূজা! ওঠ এখন, রাত বারোটা বাজে।
  • একটু ঘুমোতে দে-না পিউ!
  • না-রে, দেরি হয়ে গেলে আজ আর আমাদের গল্প শোনা হবে না, তাহলে চরকাবুড়ি রাগ করে চলে যাবে।
  • ঠিক বলেছিস, চল তাহলে,
  • দরজাটা আস্তে করে খোল, পিসি-ঠাম্মা যেন টের না পেয়ে যায়।

—- চল, চল।

—- চরকাবুড়ি! কোথায় তুমি?
একটু দেখা দাও!
পিউ-পূজা ডাকছে তোমায়
গল্প বলে যাও!

—- হা — হা— হা— তোরা এসে গেছিস!

—- হ্যাঁ-গো চরকাবুড়ি, তোমার গল্প না শুনলে আমাদের কিছুই ভালো লাগেনা।

—- আচ্ছা, তাই বুঝি! আজ তোদের একটা মজার গল্প শোনাবো।

—- সত্যি ?

—- হুম, হা — হা– হা– এই-নে যাদুর কাঠি। এটা স্পর্শ কর। এবার আমার সাথে চল।

—- আহ্, হা – হা কী মজা!
হাওয়ায় উড়ছে পিউ-পূজা
চরকাবুড়ির যাদুর ছোঁয়া
যেন মায়ের হাতের ক্ষীরের মোঁয়া!

—- খুব আনন্দ হচ্ছে, তোমার সাথে হাওয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছি!

— কিন্তু এই আনন্দ খুব অল্প সময়ের জন্য। বাড়ির লোকজন জেগে ওঠার আগেই তোদের চলে যেতে হবে।

—- ঠিক বলেছো।

—- আচ্ছা পিউ-পূজা, আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখ তো! কিছু দেখতে পাচ্ছিস?

—- পূজা, অনেক বড়ো গোলাকার একটা চাঁদ দেখতে পাচ্ছি।

—- পিউ, আমিও দেখতে পাচ্ছি।

—- আজ আমি তোদেরকে ওই চাঁদের গল্প শোনাবো।

—- খুব মজা হবে।

—- পৃথিবীর সমস্ত মানুষ রাতের বেলা আকাশের দিকে তাকালে চাঁদ দেখতে পায়। কখনো গোলাকার, কখনো অর্ধেক, কখনো বা একফালি। কিন্তু এই চাঁদের আকার পরিবর্তন হওয়ার রহস্য কি জানিস?

—- না গো, আমরা তো কিছুই জানিনা। আমাদের মা, বাবা, টিউশন স্যার কেউ নেই। পিসি-ঠাম্মা সারাক্ষণ আমাদের বকা-বকি করে। তোমার মতো করে কেউ আমাদের ভালোবাসে না।

—- মন খারাপ করিস না। তোদের জন্য আমি আছি তো! এবার গল্পটা শুরু করা যাক—
আজ আঁকাশে চাঁদ বড়ো গেলাকার দেখাচ্ছে, কারণ আজ পূর্নিমা। পৃথিবী যখন চাঁদ ও সূর্যের মাজখানে অবস্থান করে তখন পূর্নিমা হয়। কারণ চাঁদ সূর্যের বিপরীতদিকে অবস্থান করে। সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়েই পূর্নিমা সৃষ্টি হয়। আর পূর্ণিমা হলে চাঁদ বড়ো গোলাকার হয়ে যায়।

আবার যখন চাঁদ ও সূর্য পৃথিবীর একই পাশে অবস্থান করে তখন অমাবস্যা হয়। আর এই অমাবস্যা হলে চাঁদ একেবারেই দেখা যায় না। আবার যখন চাঁদ একটু-একটু করে ঘুরতে থাকে তখন খুব ছোট বাঁকা নারকেলের ফালির মতো দেখা যায়।

আসলে আমরা যে পৃথিবীতে বাস করি এটা একটি গ্রহ। আর চাঁদ হচ্ছে পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ।
চাঁদ পৃথিবীকে কেন্দ্র করে তার চতুর্পাশে ঘুরে। চাঁদ পৃথিবীর চতুর্পাশ একবার ঘুরে আসতে প্রায় ২৮ দিন সময় লাগে। আর এই ২৮ দিনকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
একটা কৃষ্ণপক্ষ আর একটা শুক্লপক্ষ।

অমাবস্যার প্রতিপদে শুক্লপক্ষের জন্ম হয়। আবার পূর্ণিমার প্রতিপদে কৃষ্ণপক্ষের জন্ম হয়।
কৃষ্ণপক্ষের সময় রাতে চাঁদ খুব ছোট দেখা যায়, আর চারিদিক অন্ধকার হয়ে থাকে, আর শুক্লপক্ষের সময়ে চাঁদ বড়ো দেখা যায় এবং চারিদিক মিষ্টি আলোয় ভরে থাকে।

—- বাহ্! কী চমৎকার গল্প শোনালে তুমি। আজ অনেক কিছু জানতে পেরেছি আমরা।

—- কিন্তু এবার তো তোদের চলে যেতে হবে। আবার আসবো নতুন কোনো গল্প নিয়ে। সে পর্যন্ত ভালো থাকবে—।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *