নীহারিকা মুখার্জী চ্যাটার্জ্জী, কলকাতা -:
২০২৩ সাল। নিজেদের একমাত্র সন্তান অঙ্কনকে আপনমনে একাগ্রচিত্তে যোগা করতে দেখে চমকে ওঠেন পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা থানার হরিহরপুরের দত্ত দম্পতি অয়ন-অনুশ্রী। নিজের কাজে এতটাই সে নিমগ্ন ছিল আড়ালে দাঁড়িয়ে তার মা-বাবা তাকে লক্ষ্য করছেন তার খেয়াল ছিলনা। সেই শুরু। সন্তানের আগ্রহ দেখে দত্ত দম্পতি নিজেরাই সন্তানকে যোগা প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন। এখন অবশ্য তার জন্য একজন পেশাদার যোগা প্রশিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। ছাত্রের প্রতিভা দেখে প্রশিক্ষক চমকে ওঠেন। বর্তমানে অঙ্কন ইসলামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র।

ইতিমধ্যে অঙ্কন জেলার বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত যোগা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সাফল্যলাভ করে। ট্রফিতে ভর্তি হয়ে গেছে তার আলমারি। সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া বাণিপুর পিজিবিটি কলেজে আয়োজিত হয় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪১ তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। পঞ্চায়েত স্তর থেকে শুরু হওয়া সফল প্রতিযোগীরা ব্লক ও মহকুমা অতিক্রম করে জেলায় অংশগ্রহণ করে। রাজ্যের ২৩ টি জেলার বিভিন্ন ইভেন্টে প্রথম স্থানাধিকারীরা রাজ্য পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন। বালক ‘খ’ বিভাগে যোগাসন প্রতিযোগিতায় পশ্চিম মেদিনীপুরের অঙ্কন দত্ত প্রথম স্থান অধিকার করে জেলা তথা নিজের বিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করে। তার এই সাফল্যে খুশি হয়ে ইতিমধ্যে অনেকেই তাকে ‘বিস্ময় শিশু’ হিসাবে ডাকতে শুরু করছে।
পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অয়ন বাবু বললেন, ওষুধের পরিবর্তে শরীরকে সুস্থ রাখার সেরা বিকল্প হিসাবে যোগার অবদান কখনোই অস্বীকার করা যাবেনা। আমাদের সন্তানের উপর আমরা কখনোই এটা জোর করে চাপিয়ে দিইনি। আমরা চাই অন্য শিশুদের অভিভাবকরাও নিজ নিজ সন্তানকে সুস্থ রাখার জন্য যোগায় উৎসাহিত করুন। একই সুর শোনা গেল অনুশ্রী দেবীর কণ্ঠে।
