যৌতুক বিরোধী পাত্রী

মায়া সাহা (কলকাতা)

সুদর্শন পুত্র তাঁদের
সরকারি চাকরি করে।
তাই নিয়ে পাত্র পক্ষ মরে অহংকারে !

পুত্র এখন বেশ উপযুক্ত,
তাই চলছে ঘটক মশাইয়ের তলব।
ডাক পাওয়া মাত্রেই এলেন সেথা ঘটক ।

কথোপকথন শেষে বুঝলেন
পাত্র সুদর্শন বটে কিন্তু বেজায় বলদ !
এরপর শোনার অপেক্ষা ভিতরকার গলদ।

বিয়ের শর্ত নিয়ে এবার চলে কথোপকথন :

পাত্রের পিতা বললেন –
বুঝলেন ঘটক মশাই পুত্রের বিয়েতে,
আমাদের চাহিদা তেমন কিছুই নাই,
তবে – সম্বন্ধটা এমন আনা চাই
যেনো একটু আধটু যৌতুক দিতে,
তাদের কোনোও আপত্তি নাই।
আর…পাত্রী যেনো হয় গৃহকর্মনিপুণা – সুদর্শনা।
ওইটুকুতে যেনো কোনোরকম ঘাটতি থাকে না।

বুঝলেন ঘটক মশাই,
আমার পুত্র যোগ্য পাত্র- মোটা তার বেতন !
বিনা যৌতুকে বিয়ে দিলে কেমনে রয় মান ?
যোগ্য পাত্রকে জামাই রূপে পেতে,
একটু আধটু যৌতুক তো অবশ্যই দিতে হবে !
আপনি কি বলেন ঘটকমশাই ?

ঘটকমশাই ভাবেন বসে – জমিদার বাবু !
চামার কিন্তু তুমি কম নও বাপু !
দাবি নেই বলেও দাবি করতে করতে ,
আর কি-বা রাখলে বাকি ?

অবশেষে বড়োলোকের গুণধর পুত্র
দেখতে আসে পাত্রী ।
পাত্রী তো নয় !
সে যেন সাক্ষাৎ মা জগদ্ধাত্রী !

পাত্রের-পিতা শুধায় পাত্রীকে
সবরকম গৃহকর্ম জানো কী মা লক্ষ্মী ?
এরপর মাতা জননীর শুধানোর পালা।
মা লক্ষ্মীর কিছু হাতের কাজ জানা আছে কী ?
কেশ মেলে দেখাও দেখি বাছা !
গড়নটা তো দেখছি মন্দ নয় !
চলনটাই বা দেখতে কেন বাকি রয় ?
দু পা হেঁটে দেখাও দেখি চলনের ধরন টা
ইত্যাদি ইত্যাদি………..।

পাত্রী বসে গোমরা মুখে।
প্রশ্ন শুনে খানিক চুপ রহে।
তারপর উগ্র মূর্তি ধারণ করে,
পাত্র পক্ষকে আচ্ছাভাবে জব্দ করে ।

চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে
হেঁটে চলে দপ দপিয়ে।
কোমরেতে হাত রেখে প্রশ্ন পাত্রের পিতারে
মহাশয় আমাকে – পর্যবেক্ষণে
কিছুই দেখছি বাকি রাখেন নি আপনি !
এবার মহাশয় আপনি বলুন দেখি –
আপনি পুত্রবধূ খুঁজতে এসেছেন?
নাকি গুণধর পুত্রকে বিক্রয় করে,
বাড়ির জন্য বৌমা নামের একজন
রূপসী চাকরানী পেতে চাইছেন ?
যদি চাকরানী খোঁজেন
তবে খোঁজ করুন ওই বস্তুি টাতে।
মাস মায়নাতে ওই মেয়েরা কাজ পেতে চাইছে,
আর যদি আপনার পুত্রকে বিক্রি করতে চান
তবে চলে যান ওদের কাছে,
যাদের জামাই উপাধি ধারণকারী
একজন চাকরের প্রয়োজন আছে ।
আমাদেরও অবশ্য এরকম একজন
চাকর প্রয়োজন আছে !

শুনুন মহাশয়, আপনি যখন
যৌতুক নিয়ে পুত্রের বিয়ে দেবেন !
তবে আমাদের দাবিটাও শুনে রাখুন –
আপনার গুণধর পুত্রটিকে
আমাদের ঘরজামাই থাকতে হবে।
আসলে আমার বাবা জামাই উপাধি প্রাপ্ত
এমনই একজন চাকর খুঁজে চলেছেন।
ভাগ্যিস আপনি দেখা দিয়েছেন !

শুনে পাত্রের পিতা চরম রেগে উঠে বলেন,
আসপর্ধা তোমার কম নয় দেখছি !
বড্ড তেজী তুমি ?

পাত্রীর মুখে অট্টহাস্য – হাঃ হাঃ হাঃ !
বলি আপনি ভেবেছেনটা কি ?
শুধু আমিই নই !
এ যুগের সব পাত্রী এমতর ত্যাজী!
আর পাবেন না নিরুপমা,
আর পাবেন না পুত্রবধূর নামে দাসী।
আমরা একবিংশ শতাব্দীর নারী ।
আমরা যেমন জানি ভালোবাসার মন্ত্র,
তেমন জানি বিদ্রোহের মন্ত্র।
আমরা কন্য- বধূ – মাতা রূপে
সব ধর্ম পালনে শিক্ষিত – দীক্ষিত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *