রূপনারায়ানপুর পুলিশ সিসিটিভি সূত্রে ধরে পাকড়াও করল এক ছিনতাই বাজ

কাজল মিত্র: সালানপুর:- সালানপুর থানার রূপনারায়ানপুর ফাঁড়ি এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে ছিনতাই বাজদের দৌরাত্ম বেড়ে  গেছিল ।মাঝে মধ্যেই খবর আসছিল রাতের অন্ধকারে সুযোগ নিয়ে গলার হার ছিনতাই আবার কখনও অন্য় কিছু।তবে এবার  রূপনারায়ানপুর পুলিশ তদন্তে নেমে আন্তঃরাজ্য এক ছিনতাইবাজকে গ্রেফতার করে । 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাগপুর-আমরাবতী এলাকার বাসিন্দা ভরত গুরুদাস মাল ওয়াসওয়ানি নামে এক ব্যক্তি কয়েকদিন আগে রূপনারায়ানপুরের ভিডিও অফিস সংলগ্ন এলাকায় এক মহিলার গলার সোনার চেন ছিনতাই করে চম্পট দেয়। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী মহিলা রূপনারায়ানপুর ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেতেই পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে।

তদন্তের প্রথম ধাপে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হন তদন্তকারীরা। এরপর গোপন সূত্র মারফত পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত আবার রূপনারায়ানপুর এলাকায় আসতে পারে। সেই খবরের ভিত্তিতে সতর্কতা বাড়ানো হয়।

গতকাল রূপনারায়ানপুরের নান্দনিক হল সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে রূপনারায়ানপুর ফাঁড়ির আধিকারিক অরুণাভ ভট্টাচার্য ও সিভিক ভলেন্টিয়ার বিকাশ বাদ্যকরের তৎপরতায় ধরা পড়ে অভিযুক্ত ভরত গুরুদাস মাল ওয়াসওয়ানি। পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ছিনতাইয়ের কাজ করত। ট্রেনে করে নাগপুর-আমরাবতী থেকে এই এলাকায় এসে একটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত করত। ছিনতাইয়ের পর নির্দিষ্ট সাইকেল স্ট্যান্ডে মোটর সাইকেল রেখে ফের ট্রেনেই নিজের বাড়ি ফিরে যেত সে। এই কৌশলের মাধ্যমেই দীর্ঘদিন পুলিশের নজর এড়িয়ে চলছিল অভিযুক্ত।

ধৃত ব্যক্তিকে মঙ্গলবার সকালে আসানসোল আদালতে পেশ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন করেছে বলে খবর। পুলিশের দাবি, হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনার সঙ্গে তার যোগসূত্র প্রকাশ পেতে পারে এবং উদ্ধার হতে পারে লুট হওয়া সামগ্রী।

তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন বেশির ভাগ জায়গায় সিসি ক্যামেরা না থাকার কারনে এইসকল দুষ্কৃতী অধরা থেকে যায় ।আগে যেসকল স্থানে সিসি ক্যামেরা লাগানো ছিল সেই স্থান থেকে ক্যামেরা খুলে নেওয়া হয়েছে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *