লক্ষ্মণের প্রতি ঊর্মিলা

সঙ্গীতা কর: কলকাতা:-

দীর্ঘ চৌদ্দ বছর যাবৎ শায়িত থেকেছি শয্যায়
তুমিহীন তা ছিলো যে পুরোপুরি কন্টকাকীর্ণ,
জগত জেনেছে তোমাকে মহান পুরুষ রূপে
ত্যাগ তোমায় করেছে উদারতায় উৎকীর্ণ।

জেনেছে কি কেউ কার ত্যাগে তুমি নিদ্রা বিহীন
কার উদারতায় তুমি করেছো বনবাসে গমন??
কে করেছিলো নিদ্রা দেবীর সকল বার্তা পালন
অলক্ষ্যে কোন নারী করেছিলো নিদ্রাযাপন ??

রাজ সুখ ত্যাগ করে হয়েছিলে নিভৃত বনচারী
মহাকাব্যে তাই তুমি হলে শ্রেষ্ঠ ভ্রাতার উদাহরণ,
আমার যন্ত্রণার, ত্যাগের কি নেই কোনো মূল্য
তবে কেন আমি পাইনি সমান স্থান বলো লক্ষ্মণ?

সংসার ছাড়া,স্বামী ছাড়া একাকিনী বিরহিণী
মৃত্যুর থেকে কি কম বেদনার বলো তো স্বামী,
কার পূণ্যে পেয়েছিলে মেঘনাদ বধের মহাশক্তি
সেই কীর্তির অবদানে কি কোথাও নেই আমি??

তোমার আদেশ পালন করেছি প্রশ্নাতীত ভাবে
ঊর্মিলা আমি, রাজা জনক/রাণী সুনয়নার কন্যা
স্বেচ্ছায় রাজকীয় সর্ব সুখ বিসর্জনকারী নারী
তবে মানুষ কেন জানলো আমি সাধারণ নগণ্যা??

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *