শিলিগুড়িতে আইইউসিএএ-র উদ্যোগে ‘গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভস ও লাইগো-ইন্ডিয়া’ কর্মশালা

শিলিগুড়িতে আইইউসিএএ-র উদ্যোগে ‘গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভস ও লাইগো-ইন্ডিয়া’ কর্মশালা

ভাস্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি, ফেব্রুয়ারি ২০২৬:- আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের অন্যতম অগ্রসর ও সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ গবেষণাকে কেন্দ্র করে শিলিগুড়িতে শুরু হয়েছে পাঁচদিনব্যাপী এক বিশেষ কর্মশালা। পুণের Inter-University Centre for Astronomy and Astrophysics (আইইউসিএএ)-এর পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত ‘গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভস অ্যান্ড লাইগো-ইন্ডিয়া’ শীর্ষক এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৬ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত। কর্মশালার প্রথম পর্ব ১৬ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় Siliguri Institute of Technology (শিলিগুড়ি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি)-তে। পরবর্তী পর্ব ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত হচ্ছে University of North Bengal (উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়)-এর প্রাঙ্গণে। দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈজ্ঞানিক কর্মসূচি উত্তরবঙ্গের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উদ্যোক্তা সূত্রে জানা গেছে, কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য হল পদার্থবিদ্যা, গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞানের স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি শিক্ষার্থী এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভিন্ন শাখার (কম্পিউটার সায়েন্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন, ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল, ইনস্ট্রুমেন্টেশন প্রভৃতি) শিক্ষার্থীদের গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভের মৌলিক ধারণা ও প্রয়োগভিত্তিক জ্ঞান প্রদান করা। বর্তমানে গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ অ্যাস্ট্রোনমি বিশ্বজুড়ে দ্রুত বিকাশ লাভ করছে। ব্ল্যাক হোল বা নিউট্রন তারকার সংঘর্ষের মতো বিরল মহাজাগতিক ঘটনাকে বিশ্লেষণ করতে এই গবেষণার ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী এক থেকে দুই দশকে এই ক্ষেত্রে পদার্থবিদ্যা, ইঞ্জিনিয়ারিং, ডেটা সায়েন্স, সিগন্যাল প্রসেসিং এবং উন্নত যন্ত্রপ্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

কর্মশালায় আইইউসিএএ-র বিশিষ্ট বিজ্ঞানীরা উপস্থিত থেকে ধারাবাহিক বক্তৃতা প্রদান করছেন। তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের বাস্তবভিত্তিক অভিজ্ঞতা দেওয়া হচ্ছে। গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি, তথ্য বিশ্লেষণ পদ্ধতি, গণনামূলক কৌশল এবং পরীক্ষামূলক পদার্থবিদ্যার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশেষ সেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই কর্মসূচির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল তত্ত্ব ও প্রয়োগের সমন্বিত উপস্থাপনা, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গবেষণা ও উচ্চতর অধ্যয়নের জন্য একটি সুদৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। মোট ৩৫ জন অংশগ্রহণকারীকে নির্বাচিত করা হয়েছে—এর মধ্যে ১৫ জন বহিরাগত এবং ২০ জন স্থানীয়। কোনও রেজিস্ট্রেশন ফি নেওয়া হয়নি। বহিরাগত অংশগ্রহণকারীদের জন্য সীমিত আসনসংখ্যার ভিত্তিতে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি সকল অংশগ্রহণকারীর জন্য প্রাতঃরাশ ও মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা রয়েছে এবং বহিরাগতদের জন্য রাতের খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

উত্তরবঙ্গের মাটিতে আইইউসিএএ-র মতো একটি শীর্ষস্থানীয় জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে এমন উচ্চমানের বৈজ্ঞানিক কর্মশালার আয়োজন নিঃসন্দেহে এক গর্বের বিষয়। শিক্ষাবিদদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু ছাত্রছাত্রীদের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করবে না, বরং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় অংশগ্রহণের পথও সুগম করবে। বিশেষজ্ঞদের আশাবাদ, এই কর্মশালা উত্তরবঙ্গের বৈজ্ঞানিক গবেষণার পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করবে এবং তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের অগ্রভাগে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *