রাকেশ লাহা, জামুড়িয়া, পশ্চিম বর্ধমান :-
রাত পেরোলেই কালীপুজো। ইতিমধ্যেই মন্ডপে মন্ডপে পৌঁছে গিয়েছে কালী প্রতিমা, কোথাও বা কুমোরটুলিতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আবার কোথাও শিল্পী তার নিখুঁত তুলির টানে মায়ের চক্ষুদান করছেন।
সেরকমই এক চিত্র উঠে এলো আমাদের ক্যামেরায়, জামুড়িয়া বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত শ্যামলা অঞ্চলের ফরফরি গ্রামের বাসিন্দা রঞ্জিত কর্মকার। দীর্ঘ প্রায় ৭ থেকে ৮ বছর ধরে বিভিন্ন দেবদেবীর মাটির ও সিমেন্টের প্রতিমা তৈরি করে আসছেন। শিল্পীর
বয়স ২২-২৩ এর কাছাকাছি, এই বয়সে তার হাতে তৈরি প্রতিমা দেখলে চমকে যাবেন আপনিও। পশ্চিম বর্ধমান ছাড়াও বীরভূম জেলাতেও পাড়ি দেয় তার তৈরি বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি। রাত পেরোলেই কালীপুজো সেই কারণে এখন খুবই ব্যস্ততার মধ্যে রয়েছে শিল্পী রঞ্জিত কর্মকার। বছরের বিভিন্ন সময় মূর্তি গড়ার কাজেই ব্যস্ত থাকেন রঞ্জিত। এবছর প্রায় 40 থেকে 42 টি মতন কালী প্রতিমা তৈরি করেছেন নিজ হাতে। যেগুলি পৌঁছে যাবে এলাকার বিভিন্ন পুজো মণ্ডপ গুলিতে। এখন দিনরাত পরিশ্রম করে একক হাতে প্রতিমায় রং করা, চক্ষুদান, এমনকি বসন পরানো সমস্তটাই করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে আমরা রঞ্জিত কর্মকারের সাথে কথা বলেছিলাম, সে জানাই দীর্ঘ সাত থেকে আট বছর ধরে প্রতিমা তৈরি করছেন । একটা সময় নেশা হিসেবে আমি প্রতিমা তৈরীর কাজ করতাম কিন্তু বর্তমানে এই নেশাকে আমি আমার পেশায় পরিণত করেছি। রঞ্জিতের কথাই, কোন রকম কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তার নেই। গ্রামে দুর্গা পুজোর আগে শিল্পীরা মায়ের প্রতিমা তৈরি করতে এলে আমি বসে বসে আপন মনে তাদের কাজ দেখতাম। অন্যদিকে ফাঁকা সময় পেলে এলাকার কোন কুমোরটুলিতে চলে যেতাম প্রতিমা তৈরীর কাজ শিখতে।
এছাড়াও সে জানাই তার এক মামা মূর্তি তৈরি করেন, সেই মামার কাছেই দীর্ঘ সময় কাজ শিখেছি।
বর্তমানে রঞ্জিতের তৈরি বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি এলাকা ছাড়িয়ে পাড়ি দেয় ভিন জেলাতেও। অবশেষে কাতর সুরে সে জানাই, খুব গরিব পরিবারের সন্তান আমি, আমাদের নুন আনতে পান্তা ফুরোই, বাড়িতেই আমি প্রতিমা তৈরি করি জায়গা সেরকম না থাকায় সামান্য ঝড় জল বৃষ্টি হলে খুবই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
তবে স্বাভাবিকভাবেই এত কিছু বাধার পরেও বছর ২২ এর প্রতিমা শিল্পী রঞ্জিতের নিখুঁত তুলির টানে একের পর এক মাটির প্রতিমা জীবন্ত রূপ লাভ করছে।