শুনানি কেন্দ্রে তীব্র উত্তেজনা, হাতাহাতিতে জড়ালো দু’পক্ষ

রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, আসানসোল, পশ্চিম বর্ধমান -:

       ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার যে সৃষ্টি হবেই তার একটা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি নেতৃত্বের দাবি ছিল নির্বাচনে জেতার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস এইরাজ্যের ভোটার তালিকায় বহু বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গার নাম ইচ্ছাকৃতভাবে তুলে রেখেছে। সংখ্যাটা দেড় কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে। কিন্তু খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা গেল এইরাজ্যে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ৫৮ লক্ষাধিক। তাদের দাবি না মেলায় বিজেপি নেতৃত্ব চিন্তিত হয়ে পড়ে। আসলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এইরাজ্যে জেতার জন্য সংগঠনহীন বিজেপি নেতৃত্ব ‘সার’ এর উপর নির্ভরশীল ছিল।

      সমস্ত রীতিনীতি লঙ্ঘন করে যেভাবে নির্বাচন কমিশন নিত্যনতুন পক্ষপাতমূলক নির্দেশ দিচ্ছিল তাতে তৃণমূল নেতৃত্ব নিশ্চিত ছিল বিজেপি ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য ৭ নং ফর্ম জমা দেবে। বাঁকুড়ার ঘটনা তৃণমূল নেতৃত্বকে আরও সতর্ক করে দেয়। 

        এই পরিস্থিতিতে ৭ নং ফর্ম জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি পরস্পরের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। তর্কাতর্কি থেকে শুরু করে কোথাও আবার সেটি হাতাহাতিতে পরিণত হয়। ব্যতিক্রম ছিলনা আসানসোল দক্ষিণ থানার মহকুমাশাসকের শুনানি কেন্দ্র।

      তৃণমূলের অভিযোগ, বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব একটি কালো গাড়ি করে অসংখ্য ৭ নং ফর্ম নিয়ে আসে।সেখানে আগেই উপস্থিত থাকা তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা বিষয়টি উপলব্ধি করে গাড়িটি চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখায়। এমনকি গাড়ির সামনের কাচও ভাঙচুর করা হয়। উভয়পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয় এবং পরে তারা  হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

      খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ এবং তারা   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে এক বিজেপি নেতাকে আটক করে। 

       তৃণমূলের অভিযোগ ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য বিজেপি নেতৃত্ব চক্রান্ত করছে। তাই তারা ৭ নং ফর্ম জমা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমাদের সদা সতর্ক কর্মীরা তাদের এই চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিয়েছে। 

        যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি অশান্তি পাকানোর জন্য তৃণমূল নেতৃত্ব ইচ্ছাকৃতভাবে ঝামেলা করেছে। পরে তারা ৭ নং ফর্ম জমা দিতে শাসক দলের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে প্রতিবাদে প্রথমে তারা এসডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান এবং পরে বার্ণপুর রোড  অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। নেতৃত্ব দেন আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি বিধায়িকা অগ্নিমিত্রা পাল, পশ্চিম বর্ধমান জেলা বিজেপি সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য প্রমুখ।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *