মালবিকা পাণ্ডা (ডিরোজিও নগর, পূর্ব মেদিনীপুর)

খুব কষ্ট হয় যখন আমার শরীর
হইতে একটা একটা করিয়া
অঙ্গ কাটিয়া লয়।
আমি কি এতই তুচ্ছ !
এতই নগন্য !
আমি সমাজের জঞ্জাল পরিস্কার করিয়া থাকি,
তোমাদের সংসারের জঞ্জাল সাফ করিয়া সংসারকে
বাসযোগ্য করিয়া তুলি।
তাহা হইলে আমার শরীরের অঙ্গ গুলোকে দন্ত
খুটাইবার খড়িকা হিসেবে ব্যবহার কেন করা হয়?
আমার বুঝি কষ্ট হয় নাই।
কাহারও শরীরে ভুত চাপিল, আমার উপর অত্যাচার
শুরু হইল।
সেখানেও আমাকে দিয়া মানুষটাকে প্রহার
করাইলি।
কেন রে বাবা ! লাঠি সোটা কি ছিল নাই।
নিদেনপক্ষে কয়েকটা চপেটাঘাত করিয়া
ভুত বাবাজীকে ঘাড় হইতে নামাইয়া দিতিস।
কোনো সদ্য প্রসুতি মা গৃহে প্রবেশ করিলে
দুয়ারে আমাকে বুক চিতিয়া পড়িয়া থাকিতে হয়।
প্রসূতি মা আমার বক্ষের উপর
পদযুগল তুলিয়া আমাকে যারপরনাই দলাইমলাই
করিয়া ভিতরে প্রবেশ করিলেন।
চিৎকার করিয়া কাঁদিলাম,
কেহ শুনিল না আমার কথা,
বুঝিল না বক্ষের ব্যথা।
গৃহের ধুলো বাহির করিবার জন্য
আমাকে সজোরে ধপাস ধপাস
করিয়া গৃহের ধুলো বাহির করা হয় ।
মাঝে মাঝে আমাকে দেওয়ালে
আছড়াইয়া দেওয়া হয় ।
হে ঈশ্বর !
আমি সম্মার্জনী বলিয়া
আমার কি সম্মান টুকুও নাই ।
মা সারদা কহিয়াছেন , প্রত্যেক
মানুষের যেরূপ সম্মান রহিয়াছে ,
সম্মার্জনীরও সেই রূপ সম্মান রহিয়াছে।
তাহাকে যত্রতত্র ফেলিয়া রাখা
উচিত নহে অত্যাচার কদাচ নয় ।
আমাকে ঈশ্বর সর্বপ্রকার ক্ষমতা
প্রদান করিয়াছেন ।
শুধু একটি ক্ষমতা প্রদান করিতে
ভুলিয়া গিয়াছেন ।
মনুষ্য প্রজাতির অন্তর হইতে
ময়লা দুর করিবার ক্ষমতা ।
আমার ক্ষমতা অসীম ।
আমি নারীর দক্ষিণ হস্তে
যখন খাঁড়া হইয়া থাকি ,
তখন আমি এক অদৃশ্য ক্ষমতার
অধিকারীনী হই।
পুরুষ সমাজ আমাকে দেখিয়া
পিছু হটিতে বাধ্য হয় ।
যে কোনো জমায়েত , মিছিলকেও
ছত্রভঙ্গ করিয়া দেবার ক্ষমতা আমি রাখি ।
তাই বলছি সম্মার্জনীকে সম্মান কর ,
নারী জাতিকে সম্মান কর ।
অন্যথায় , দুই যদি এক হইয়া যায় তাহা হইলে
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাঁধিয়া যাইবে।
মা শীতলার দক্ষিণ হস্তে সম্মার্জনী ,
বাম হস্তে কলসী ,
মস্তকে কুলো ,
ঝেঁটিয়ে বিদায় করেছিলেন
গুটি বসন্তের জীবাণু মেশানো ধুলো।
নারী রূপী শীতলা পূজিত হন
সারা দেশে।
ভিন্ন নামে ভিন্ন বেশে।
নারী, সময় হয়েছে মা শীতলা
রূপ ধারণ করার।
দুর্গা রূপে অসুর বধ করেছে তুমি।
এবার দক্ষিণ হস্তে ধারণ কর
তোমার অস্ত্র সম্মার্জনীকে।
বিদায় কর জঞ্জাল , দূর করো আপদ।
নারী, তুমিই পারো সুস্থ সন্তানের
জন্ম দিতে।
তুমি পারো সুস্থ পৃথিবী গড়ে তুলতে।