সুন্দরবনে নতুন নেকড়ে মাকড়সার প্রজাতি আবিষ্কার করলেন জেডএসআই-এর বিজ্ঞানীরা

প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো
ভারত সরকার


‘নীরব এই শিকারি’ অঞ্চলের অজানা জীববৈচিত্র্যের ইঙ্গিতবাহক

কলকাতা, ২৫ জুলাই, ২০২৫

জুওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (জেডএসআই), কলকাতা-র গবেষক বিজ্ঞানীরা সুন্দরবনের সাগর দ্বীপে একটি নতুন প্রজাতির মাকড়সা আবিষ্কার করেছেন, যা এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু এখনও অজানা জীববৈচিত্র্যের প্রমাণ বহন করছে। এই আবিষ্কার ভারতবর্ষে পিরাটুলা বর্গের প্রথম দৃষ্টান্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই বর্গের নেকড়ে মাকড়সারা মূলত এশিয়ায় পাওয়া যায়, তবে, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায়-ও এদের সীমিত উপস্থিতি রয়েছে।

লাইকোসিডিে পরিবারভুক্ত এই নতুন চিহ্নিত প্রজাতিটির নাম পিরাটুলা অ্যাকিউমিনাটা। সাধারণ ভাষায় এদের নেকড়ে মাকড়সা বলা হয়। এরা জাল তৈরি না করে ভূমিতে বাস করে এবং হঠাৎ আক্রমণ চালিয়ে শিকার ধরে। এরা নীরব ওবুদ্ধিমান শিকারি।

জেডএসআই-এর মুখ্য গবেষক ড. সৌভিক সেন জানিয়েছেন, এই মাঝারি আকারের মাকড়সাটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮-১০ মিলিমিটার এবং এর দেহে ফ্যাকাশে ক্রীম রঙের উপর বাদামি ও সাদা দাগ ও পশ্চাদ্দেশে দুটি হালকা বাদামি ডোরা রয়েছে। পুরুষ মাকড়সার যৌনাঙ্গের একটি ছুঁচল মূল বাহু ও স্ত্রী মাকড়সার ডিম্বাকৃতি স্পার্মাথিকা (ovate spermathecae)-র মতো গঠনগত বৈশিষ্ট্য একে একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করতে সাহায্য করেছে। ড. সেন আরও জানিয়েছেন, “এই মাকড়সার গঠন এমনই অন্যরকম যে, প্রথম দেখাতেই বোঝা যায় এটি অচিহ্নিত একটি প্রজাতি। আমরা কয়েক সপ্তাহ ধরে এর গঠনগত বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়েছি।”

গবেষক দলের মধ্যে ছিলেন ড. সৌভিক সেন ও ড. সুধীন পি. পি. (জেডএসআই, কলকাতা) এবং ড. প্রদীপ এম. শঙ্করন (সেক্রেড হার্ট কলেজ, কুচিন)। তাঁদের বিশদ বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদন সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে “জুটাকসা” নামক বৈজ্ঞানিক সাময়িক পত্রিকায়।

সুন্দরবনের বদ্বীপ অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাগর দ্বীপ। এই দ্বীপে নতুন মাকড়সা প্রজাতি আবিষ্কারের মাধ্যমে এখানকার জীববৈচিত্র্যের প্রাচুর্য আবারও প্রমাণিত হল। এই দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ খুবই অন্যরকম। গঙ্গা নদীর বয়ে আনা পলিমাটি দিয়ে এই অঞ্চল গঠিত হয়েছে। এখানে কাদামাটি ও নদীর মোহনার জল নানা ধরনের গাছপালা ও প্রাণীর বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে।

জেডএসআই-এর পরিচালক ড. ধৃতি ব্যানার্জি বলেন, “প্রতিটি নতুন প্রজাতির আবিষ্কার আমাদের এই অঞ্চলের অবিশ্বাস্য প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে। একইসঙ্গে এটি একটি সতর্কবার্তা — পরিবেশ রক্ষায় দেরি করলে আমরা কি হারাতে পারি তারও ইঙ্গিত।”

গবেষকরা পিরাটুলা অ্যাকিউমিনাটা-র পরিবেশগত ভূমিকা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এর সুরক্ষিত থাকার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

এই ধরনের আবিষ্কার জীববৈচিত্র্য অনুসন্ধান ও সংরক্ষণের প্রচেষ্টার গুরুত্বকে তুলে ধরে এবং সুন্দরবনের মতো একটি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্রের কেন্দ্র নিয়ে চর্চার প্রাসঙ্গিকতার দলিল হয় ওঠে।


SSS/RS/25.7.25…..

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *