সুন্দরবনে নবদম্পতির বিবাহ উদযাপন করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, বললেন – “মানবিকতার আসল রূপ এটাই”

সংবাদদাতা, সুন্দরবন, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা:-

সুন্দরবনের বুকে এই সপ্তাহে জন্ম নিল ভালোবাসার এক নতুন গল্প। দুই তরুণী, পেশায় নৃত্যশিল্পী — রিয়া সর্দার ও রাখি নস্কর সাহস, স্বাধীন সিদ্ধান্ত এবং বাংলার উদার মানসিকতার চিরায়ত ছন্দে বাঁধা পড়ে নিজেদের নতুন জীবনকে প্রকাশ্যে উদযাপন করলেন। কুড়ি ছুঁইছুঁই এই দুই তরুণীর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে ৪ নভেম্বর, কুলতলি ব্লকের জলবেড়িয়ার পালেরচক মন্দিরে। তাঁদের বিয়ের আয়োজন একদিকে যেমন ছিল পরম্পরায় বাঁধা, তেমনই প্রতিবাদেরও প্রতীক। তাঁরা যখন একে অপরের হাতে হাত রেখে দাম্পত্য জীবনের পথে এগিয়ে চলার শপথ নেন,  গ্রামবাসীরা শাঁখ বাজিয়ে, উলুধ্বনিতে ও আশীর্বাদে ভরিয়ে দেন নবদম্পতিকে।

সোমবার তাঁদের সম্মানে আয়োজিত হয় এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান, যেখানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ বাপি হালদার-সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব। মর্যাদা, গ্রহণযোগ্যতা ও সমতার বার্তাকে আরও দৃঢ় করে, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক শ্রী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ফোনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে নবদম্পতিকে ও তাঁদের পাশে দাঁড়ানো সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “তাঁরা জানতো পথচলা সহজ হবে না, তবু পিছিয়ে আসেনি। আমি কৃতজ্ঞ সেই গ্রামবাসীদের কাছেও, যাঁদের অকুণ্ঠ সমর্থনেই এই মুহূর্ত সম্ভব হয়েছে।” “ভালোবাসা মানেই মানবিকতা, আর মানবিকতাই সমাজের প্রকৃত পরিচয়। এটি কেবল দুটি মানুষের বিয়ে নয়, এটি বাংলা ও গোটা দেশের গৌরব,” তিনি যোগ করেন। তিনি আরও জানান, খুব শীঘ্রই তিনি নিজে গিয়ে এই দম্পতির সঙ্গে দেখা করবেন এবং তাঁদের আনন্দের অংশীদার হবেন। সেইসঙ্গে কুলতলির মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, যেভাবে তিনি ডায়মন্ড হারবারের মানুষের পাশে থেকেছেন, ঠিক সেভাবেই তাঁদের এলাকার উন্নয়ন ও অগ্রগতিও তিনি নিশ্চিত করবেন।

বাংলা বরাবরই প্রগতিশীল চিন্তার আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত। সেই চিরায়ত ঐতিহ্যকে বহন করে সুন্দরবনের এক প্রত্যন্ত গ্রামে এই যুগলবন্দী হয়ে উঠেছে মানবিকতা, সাহস এবং স্বাধীনভাবে ভালোবাসার অধিকারের এক নীরব অথচ দৃঢ় ঘোষণা। তাঁদের বিবাহ গোটা দেশকে আবার মনে করিয়ে দিয়েছে—প্রগতির মূল শুরু হয় সহমর্মিতা থেকে, সর্বোপরি ভালোবাসাই স্বাধীনতার সবচেয়ে খাঁটি ও সত্য প্রকাশ।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *