সেই মেয়েটা

শোভনা মিশ্র (পুণে, মহারাষ্ট্র)

সেই মেয়েটা যে একলা যেতে
হাজার বার পথ দেখতো পিছন ফিরে
দ্রুত চালে ভয়ে সন্ত্রস্ত হয়ে
লোক খুঁজতো গলির পথে?
সেই মেয়েটাই রাত বিরাতে একলা ছুটে
বিমান চালায় আকাশ ফুঁড়ে মধ্যরাতে।
সেই মেয়েটা যে ভাতের ফ্যানে নৈশভোজ
বাসিভাতে তেল লংকায় প্রাতঃরাশ সারে
আজ সে রিক্সা চালায় পাঁচমাথার মোড়ে
কু-ঝিকঝিক রেলও ছুটায়
তীব্র বেগে সেতুর উপর পটরী পরে।
জোরে উনানে ফু দেয় ভেজা কাঠে
চোখের জলে নাকের জলে
হয়রানিতে যে ভাত রাঁধতো
আজ সে সিভিল পোশাকে ডান্ডা হাতে
গাড়ি ছুটায় পিচ রাস্তায়
চোর ধরছে যারা ভদ্র সাজে লোকালয়ে
আড়াল হলেই খোলস ছাড়ে।

সেই মেয়েটা যে স্বামীর অত্যাচারে কুঁকড়ে যেত
মারের ঘায়ে হাতে পিঠে রক্ত ঝরতো
নিজে নিজেই আজ মলম ঘসে
আজ সে শিখে গেছে সংঘর্ষ বলে কাকে
হাত উঠালেই প্রতিবাদ করতে জানে
প্রয়োজনে দু চার ঘা দিচ্ছে কষে।
সেই মেয়েটা যে ডিগ্রি হাতে তবুও সে
আলমারিতে ফাইলটাকে গুছিয়ে রাখে
সময় সময় চোখের জলে দেখতো তাকে
অনেককাল পরে সে আবার উঠে দাঁড়ায়
আজ সে কোর্ট পরে পোডিয়ামে
স্পিচ দিচ্ছে মানবাধিকারের সেমিনার হলে।

ঘরবন্দীর শিকলটাকে ভাঙ্গতে হলে
সমাজটাকে আঙ্গুল দিয়ে দেখাতে হলে
তৈরি করো নিজেকে শক্ত করে
দয়ার দান অনুদান সবকে পিছনে ফেলে
সমর্থ হও সক্ষম হও অধিকারের প্রশ্ন নিয়ে।
অপমানের অঙ্গারে বিবেক জ্বালাও
ছাই হয়ে যাও নিঃস্ব হয়ে
দেখাও তোমার মাঝেও আছে স্ফুলিংগ
সেও একদিন আকাশ ছুঁবে।
আগুন ফাগে পলাশ বাগে
নতুন ঊষা আলোর ফাঁদে
কমজোর কড়ি নয় তারা আজ
ঐ দেখ চতুর্দিকে জয়ের নিশান
বাঁচতে চায় বাঁচতে চায় বাঁচাতে চায়
প্রগতিশীল হবেই ধরা তাদের ছোঁয়ায়।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *