লিপিমিতা তনুশ্রী (কলকাতা)

স্নিগ্ধ জলের আবেশ নিয়ে মুহুর্তরা সমুখে এসে দাঁড়ায় যখন
পল্লবিত হয় সবুজ মন ক্ষণিকের অনুভব সিক্ত শিহরণ,
অথচ দীর্ঘ যাপন পথে আসন্ন রাত্রি, গোধূলিবেলা
পড়ন্ত ছায়াপথ ধরে এখনও যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা
রণভূমে ক্লান্ত শ্রান্ত দেহ, নতজানু আভূমি প্রার্থনায়,
এক কুশি জল, এক মুঠো ফুলের সুবাস প্রতীক্ষায়।
অস্তমিত সূর্যের বিষণ্ণ আলোয় মুদিত পাপড়িদল
বেহাগ সুরে বনতল কম্পিত কায় — ক্রমশঃ ভাঁটার টান,
সন্ধ্যাদীপ জ্বালিয়ে গঙ্গা আরতির মতো আরাধনা
অথই অপার অশ্রুপারে দূরদিগন্তে অন্তর্লীন সমর্পণ।
বিগত জনমের স্মৃতির রোমন্থন অবিচল অবিরাম
অথচ জাতিস্মর নই, এক জীবনে কতবার জন্মান্তর!
ভাঙা-গড়া, পরিণত-অপরিণত, বোধ-নির্বোধ
নির্মোক আয়ুপরিধিতে ঘুরপাক খায় ভবঘুরে জীবন
অপত্য স্নেহপ্রেম মায়ার বাঁধন বিনিসূতোর টান ;
ঘূর্ণায়মান আবর্তে আবর্তিত হয় নদী জল মেঘ কত কিছু
নশ্বর জীবনের প্রতিভূ, তবু আলো তবু আশা,
চিলতে আয়নাজলে ক্ষণিকের ভালবাসা
শেষ পাতাকে আগলে রাখার আপ্রাণ প্রয়াস নিরবধি
তবু কি আগলে রাখা যায় সবকিছু — শেষ অবধি!