স্বচ্ছতা যেখানে অভ্যাস, সেখানেই আনন্দের ঠিকানা: পরিচ্ছন্ন রেলপথেই গড়ে ওঠে আনন্দময় যাত্রা

স্বচ্ছতা যেখানে অভ্যাস, সেখানেই আনন্দের ঠিকানা: পরিচ্ছন্ন রেলপথেই গড়ে ওঠে আনন্দময় যাত্রা

ER/Press Release : 2026/02/64

কলকাতা, ২৩ মার্চ, ২০২৬

আপনি কি কখনও ট্রেনযাত্রায় জানালার ধারে বসে গরম চায়ের সাথে ঝালমুড়ি উপভোগ করেছেন? সেই ঝালমুড়ির মোড়ক বা খালি চায়ের কাপ আপনি কোথায় ফেলেছিলেন? নিশ্চয়ই কোচের দরজার কাছে রাখা ডাস্টবিনে! যদি তা না হয়ে থাকে, অতীতকে হয়তো বদলানো যায় না, কিন্তু বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অবশ্যই বদলানো সম্ভব। মনে রাখবেন, ট্রেনের কামরা বা রেললাইনে যেকোনো ধরনের আবর্জনা ফেলা একটি সামাজিক ব্যাধি। রেলওয়ে নিয়মিতভাবে ট্র্যাক ও স্টেশনকে আবর্জনামুক্ত রাখতে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কিছু যাত্রী ও বিক্রেতার অসচেতন আচরণের ফলে রেলকর্মীদের, বিশেষত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সাথে যুক্ত কর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ব্যাহত হচ্ছে।

রেলওয়ের পরিচ্ছন্নতার সাথে যুক্ত ও হাউসকিপিং কর্মীরা দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করে প্ল্যাটফর্ম ও ট্র্যাক থেকে আবর্জনা পরিষ্কার করেন, প্রয়োজনে নিজেদের জীবনকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেন। অনেক সময় ট্র্যাকে আটকে থাকা আবর্জনা সরাতে দীর্ঘ সময় লাগে, অথচ রেললাইন সবসময় চলন্ত ট্রেন থেকে মুক্ত থাকে না। ফলে যত বেশি সময় এই কর্মীরা লাইনের উপর থাকেন, ততই দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। একবার ভেবে দেখুন, যারা এই কঠোর পরিশ্রম করছেন, তাদের পরিবারের সদস্যরাও তাদের জন্য অপেক্ষা করছেন—দিনভর ক্লান্তিকর কাজের শেষে তারা বাড়ি ফিরে একসাথে খাবার গ্রহণ করবেন বলে। আপনার একটি ছোট পরিচ্ছন্ন অভ্যাসই তাদের নিরাপদে বাড়ি ফেরার নিশ্চয়তা দিতে পারে।

মনে রাখবেন, ভারতীয় রেলওয়েতে আবর্জনা ফেলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যাত্রীদের আবর্জনা ফেলা, থুতু ফেলা বা পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর করার জন্য জরিমানা করা হতে পারে। এই ধরনের অপরাধের জন্য জরিমানা সর্বোচ্চ ₹৫০০ পর্যন্ত হতে পারে।

ভারতীয় রেলওয়েতে অ্যান্টি-লিটারিং আইনের মূল দিকসমূহ:

পরিসরের সংজ্ঞা: এই আইন রেলওয়ের সমগ্র এলাকা জুড়ে প্রযোজ্য, যার মধ্যে স্টেশন, প্ল্যাটফর্ম ও ট্র্যাক অন্তর্ভুক্ত।

নিষিদ্ধ কার্যকলাপ: ট্র্যাক, স্টেশন বা ট্রেনের কামরায় আবর্জনা ফেলা, থুতু ফেলা, প্রস্রাব/মলত্যাগ করা বা কাপড়/বাসন ধোয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

জরিমানা: প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অপরাধীদের উপর জরিমানা আরোপ করা হয়।

প্রয়োগ: রেল সুরক্ষা বাহিনী (RPF) এবং অনুমোদিত কর্মীরা পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গের জন্য জরিমানা আরোপ করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত।

বিক্রেতাদের দায়িত্ব: অনুমোদিত বিক্রেতা ও ক্যাটারারদের ডাস্টবিন রাখা বাধ্যতামূলক এবং সঠিকভাবে বর্জ্য অপসারণের দায়িত্ব তাদের উপর বর্তায়; ব্যর্থ হলে তাদেরও জরিমানার সম্মুখীন হতে হয়।

চলতি আর্থিক বছরে ১ এপ্রিল ২০২৫ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত পূর্ব রেলওয়ের RPF রেল পরিসরে আবর্জনা ফেলার অপরাধে ৬,২০,৯০৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং অপরাধীদের কাছ থেকে ₹১,২১,৫৯,৯০০ টাকা জরিমানা বাবদ আদায় করেছে।

তবে মনে রাখবেন, শুধুমাত্র জরিমানা কখনওই একটি আবর্জনামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে না। সকল ব্যবহারকারীর সম্মিলিত সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতার অভ্যাসই পারে যাত্রাকে সত্যিকার অর্থে আনন্দময় করে তুলতে।

পূর্ব রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার শ্রী মিলিন্দ দেওস্কর বলেছেন, সকল রেল ব্যবহারকারীদের উচিত রেলওয়ের এই উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করা এবং রেল পরিসর ও রেললাইনকে আবর্জনামুক্ত রাখতে একযোগে এগিয়ে আসা। রেলওয়ের পরিচ্ছন্নতার আহ্বানকে একটি গণআন্দোলনে পরিণত করতে হবে, যেখানে যাত্রী, বিক্রেতা ও সকল অংশীদার সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *