রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, ফাইনাল এক্সপোজার -:
অন্যান্য দিনের মত বিচারপতি, আইনজীবী, আদালত কর্মী, আসামী, পুলিশ, বিচার চাইতে আসা সাধারণ মানুষ সহ নানান মানুষের ভিড়ে আসানসোল আদালত চত্বর তখন গমগম করছে। সবকিছুই স্বাভাবিক ভাবেই চলছিল। হঠাৎ ছন্দপতন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আদালত চত্বরে প্রবেশ করে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের একাধিক উচ্চ পদস্থ পুলিশ আধিকারিক সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং সঙ্গে ডগ স্কোয়াড। খালি করে দেওয়া হয় আদালত চত্বর। সবাইকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ শুরু করে তল্লাশি।

জানা যাচ্ছে, ডিস্ট্রিক্ট জাজের মেলে বাংলায় লেখা একটি ইমেল আসে। দাবি করা হয় বেলা একটা নাগাদ আইইডি ডিভাইসের মাধ্যমে ১৫ টি আরডিএক্স বোম বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে আসানসোল আদালত উড়িয়ে দেওয়া হবে। বোমগুলি বিচারকের চেম্বার সহ আদালতের বিভিন্ন জায়গায় বসানো আছে।
মেলের ‘টেক্সট’ মেসেজ দেখেই বিচারক বিষয়টি আসানসোল বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সহ অন্যান্যদের জানান। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছান ডিসিপি (সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস সহ একাধিক উচ্চ পদস্থ আধিকারিক ও পুলিশের বিশাল বাহিনী এবং ডগ স্কোয়াড। দ্রুত আদালত চত্বর ফাঁকা করে দেওয়া হয়। জেল থেকে নিয়ে আসা অভিযুক্তদের নিরাপদে জেলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আতঙ্কে আদালতের সমস্ত শুনানি বন্ধ করে দেওয়া হয়। আদালতের প্রবীণ আইনজীবীরাও মনে করতে পারলেননা আসানসোল আদালতের ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেছে কিনা।
এদিকে বোমের খোঁজে প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড এবং পুলিশের বোম স্কোয়াড বাহিনী আদালত চত্বরে চিরুনি তল্লাশি শুরু করে। পুলিশ এই হুমকি মেলকে একেবারেই হালকা ভাবে নিচ্ছেনা। সমস্ত আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা আদালত চত্বরে তল্লাশি জারি রেখেছে। ঘটনায় আদালত চত্বরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।


