বাইশে শ্রাবণ 

 
শোভনা মিশ্র (পুণে, মহারাষ্ট্র)

মেঘে ঢাকা সূর্যকর, শ্রাবণের মধ্যাহ্ন গগন
ভাস্বর রবি চলে বেলাশেষে অনন্তযাত্রায়।
শোকাগ্নির বিষম ব্যথায় বিগলিত প্রাণ,
অবিশ্রান্ত ধারায় ঝরে বর্ষার সঘন মেঘ।
পরাজিত হবে না সে অশ্রুসজল আঁখিতে
বাইশে শ্রাবণের কাছে সে যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

কবিই বলেছেন “মরণ রে, তুঁহুঁ মম শ্যামসমান”
তুমি নও “শূন্যময়” ,এক “পরিপূর্ণ রূপ”।
কেন তবে বিলাপে কাটাও তোমরা সময়?
বিশাল তাঁর সৃষ্টিসম্ভার অনাবৃত,উন্মুক্ত
আকাশের দিকে চেয়ে দেখ ,উপলব্ধি করো
কবির মনের অন্তিম বাসনা।

প্রেমের উচ্ছ্বাসে বলে যাও দু চরণ কবিতা
বিরহের দিনে গান গেয়ে রেখে যাও
অন্তরে স্তূপিকৃত চাপা মনোবেদনা ।
কভু শ্রাবণে কভু ভাদরে দুখেতে আনমনে
ভাবনায় ভেসে যাও কবিতার লহরে।
গল্পের প্রতিটি ক্ষণকে নিজস্ব বানাও
প্রাণের কবির রেখে যাওয়া প্রেম স্পন্দনে।

জ্যোতিষ্ক লোকের পথে তিনিও শুনেছেন,
ঝরনার জলোচ্ছাসের উদ্দাম শব্দ
নদীর কুলুকুলু বহমান ধ্বনি
মাতৃগর্ভা ধরিত্রীর বুকে দেখেছেন সৃষ্টির উন্মাদনা।
বাইশে শ্রাবণ তাঁর চলে যাওয়ার দিন না
তাঁর অমরত্বের দিন মানব হৃদয়ে।

প্রতিটি বাঙালি মনের মনিকোঠায়
সযতনে ধরে রেখেছে তাঁর অমরবাণী।
সৃষ্টির যজ্ঞশালায় যে সম্পদ রেখে গেছেন
তার প্রতিটি অমৃত কনায় বিরাজিত কবি,
অনুভূত হয় তার উপস্থিতি হৃদয়ের অভ্যন্তরে।
দেখ অপলক চোখে রবি চেয়ে আছে
আজও তোমারই মনের গহিনে।
তুমিও শুনতে পাবে তাঁর ছায়ায় সেই ধ্বনি…

        "উদয়ের পথে শুনি কার বানী
              ভয় নাই,ওরে ভয় নাই।
          নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান 
              ক্ষয় নাই, তা'র ক্ষয় নাই।"

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *