শিলিগুড়ি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে বিশেষ আয়োজন: “গ্রাউন্ড জিরো বিজনেস ব্যাটল”

শিলিগুড়ি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে বিশেষ আয়োজন: “গ্রাউন্ড জিরো বিজনেস ব্যাটল”

ভাস্কর চক্রবর্তীর, শিলিগুড়ি:- বিশ্ব উদ্যোক্তা দিবস বা World Entrepreneurs Day উপলক্ষে শিলিগুড়ি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে (এসআইটি) বিবিএ বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো এক অভিনব আন্তঃ বিভাগীয় ব্যাবসায়িক প্রতিযোগিতা, যার নাম “গ্রাউন্ড জিরো বিজনেস ব্যাটল কম্পিটিশন”। প্রফেশনাল স্টাডিজের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন ব্যবসা শুরুর মানসিকতাকে উজ্জীবিত করা এবং ভবিষ্যতের উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁদেরকে বাস্তব কাঠিন্যের  জন্য প্রস্তুত করা। কলেজের স্যার জে সি বোস মেমোরিয়াল সেমিনার হলে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। যেখানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও অতিথিদের বরণের মধ্য দিয়ে মূল পর্বের সূচনা হয়।

এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিভ ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের সিইও এবং মহারাজা অগ্রসেন হাসপাতালের চেয়ারম্যান শ্রীনীরজ চৌধুরী। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “উদ্যোক্তা হওয়া মানে শুধু একটি ব্যবসা শুরু করা নয়, বরং নতুন ভাবনা, সৃজনশীলতা এবং ঝুঁকি নেওয়ার সাহস থাকা। আগামীর ভারত গড়ে উঠবে সেই সব তরুণদের হাত ধরে, যারা সুচিন্তিত পরিকল্পনা ও উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।”

উদ্ভাবনী উপস্থাপনা নিয়ে সারা দিনব্যাপী চলা এই প্রতিযোগিতায় বিসিএ, বিএইচএইচএ, বিবিএ, বিবিএ-এটিএ এবং বিএসসি সাইকোলজি সহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাঁদের উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণা নিয়ে মাঠে নামে। মোট ছয়টি দল তাঁদের স্টার্টআপ প্রেজেন্টেশন ও ব্যাবসায়িক মডেলের মাধ্যমে বিচারকের মন জয় করার চেষ্টা করে। এই দলগুলো শুধুমাত্র তাদের মৌলিক ভাবনা তুলে ধরেনি, বরং সেগুলোকে কার্যকর করার জন্য চমকপ্রদ বিপণন কৌশল, পরিকল্পিত আর্থিক মডেল এবং গ্রাহকদের চাহিদা কেন্দ্রিক সমাধানও উপস্থাপন করে।

অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিবিএ ও বিবিএ-এটিএ বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান পারমিতা চৌধুরী জানান, “প্রফেশনাল স্টাডিজের অন্তর্গত বিভিন্ন বিভাগের নানা সেমিস্টারের ছাত্র-ছাত্রীরা দলগতভাবে এদিনের আন্তঃ-বিভাগীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। তাদের উৎসাহ, সৃজনশীলতা ও মেধার মেলবন্ধন এই প্রতিযোগিতাকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। প্রথম স্থান অর্জন করেছে বিবিএ-এটিএ বিভাগ, দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে বিবিএ ৫ম সেমিস্টারের দল এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে বিএইচএইচএ বিভাগ। অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলের হাতে স্মারক স্বরূপ মেডেল ও শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। এই দিনটি প্রমাণ করেছে যে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা ও দলগত চেতনা কতটা শক্তিশালী হতে পারে। অনুষ্ঠানটি তারুণ্যের উদ্দীপনা, সৃজনশীলতার ঝলক এবং প্রতিযোগিতার আবেগে ভরপুর এক অনন্য মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে রইল।”

এই ধরনের প্রতিযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে এস আই টির প্রফেশনাল স্টাডিজ কলেজের প্রিন্সিপাল-ইন-চার্জ ড. অরুন্ধতী চক্রবর্তী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া। এই উদ্যোগ তাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতে  ব্যাবসায়িক ক্ষেত্রে আরও কর্মসংস্থান উদ্ভাবনকারী হিসেবে তাদের পথ প্রশস্ত করবে।” 

একই মত পোষণ করেন ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যানেজমেন্ট কলেজের প্রিন্সিপাল-ইন-চার্জ ড. জয়দীপ দত্ত, যিনি বলেন, “এ ধরনের ইভেন্ট শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে না, বরং উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার দুয়ারকে উন্মুক্ত করে। নতুন ভারত গড়ার স্বপ্নপূরণে এর ভূমিকা অপরিসীম।”

শিলিগুড়ি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্যোক্তা মানসিকতাকে আরও শক্তিশালী করতে ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

CATEGORIES

COMMENTS

Wordpress (0)
Disqus ( )