শেষ বিন্দু

মিতি হালদার (কলকাতা)

প্রিয়, তোমাকে দিয়ে শুরু যতটুকু কৃত্রিম-অকৃত্রিম,
যা কিছু উৎকৃষ্ট বা উচ্ছিষ্ট, আঁকড়ে ধরে রাখি
এই ক্ষুদ্র বুকে,শূন্যতার ভয়ে।
মন-বারান্দার চারিদিক ভিজে জবজব,
কবে কার উত্তাল করা অকাল বৃষ্টি-ছোঁয়াচে,
বন্ধ্যাভূমির আনাচে কানাচে।
তোমার ঘনত্বে দ্রবীভূত হয়ে আমি হয়ে যাই কাঙ্গালিনী,
গুঁড়ো অহংকার সরিয়ে পবিত্রতার দীর্ঘশ্বাস ঢাকি নিঃশ্বাসে।
তোমার সুগন্ধিত বৈভব মোড়া শরীর, আর আমি
রূপ-রস-গন্ধ-বর্ণ-আলো হারিয়ে জৌলুসহীন, নিষ্প্রভ অস্তিত্ব।
তাই, শতাব্দী প্রাচীন ঘন অন্ধকারের অতলে যখন প্রবেশ নিষেধ হয়
গভীর প্রেমের গল্পের সহস্র প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে-
আমিও পাশ ফিরে শুয়ে খুঁজে চলি-
তোমার অভ্যাসগত স্পর্শের উষ্ণতার মাপকাঠি সংঘর্ষ এড়াতে।
চোখ জড়িয়ে আসা রাত ঘুমে জন্মায় তোমাকে অর্জন করার লোভের উদ্রেক,
নেশা লাগে আমিত্বের কটু গন্ধের।
সবটুকু জুড়ে থাকা তোমার নীরবতাকে কেন্দ্র করে-
প্রতিনিয়ত আবর্তিত হতে থাকি আমি,
তবুও যাপন করি জীবন।
বিশ্বাস করো, ভালোবাসার প্রতিদানে ভালোবাসা পাওয়ার সরলীকরণটা-
আজও ভুল করি নিয়মিত, ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়।
শেষ বসন্তের উপন্যাসের শেষ অনুচ্ছেদে সাতরঙা রামধনু-
আঁকতে গিয়ে যখন কেঁপে ওঠে দুহাত দ্বিধায়,
বালি শহরে আমি তখন সুউচ্চ কাঁচ-প্রাসাদ গড়ি অনিপুণতায়,
আর নামকরণ করি তার, ‘ঝড়’ বলে।
রোদ্দুরের উঠোনে শিশির মেখে নষ্ট করি ভারসাম্য,
অন্ধত্বের শরীর বেয়ে তখন যেন কত আলোর আয়োজন।
শ্মশান আগুনের আলোয় সবাই অনুভব করে তোমায় ‘ঈশ্বর’ বলে,
কিন্তু আমি তোমাতে খুঁজে পাই ‘মৃত্যু’।
অযত্নের বদ্ধ দরজার ছিটকিনি খুলে,খামখেয়ালির স্তর খসিয়ে,
এবার তবে তুমিও বেরিয়ে এসো একটিবার,
পরিচয় করাও…..আমাকে আমার সাথে,
কিছু শব্দ না হয় থাক উহ্য,অনুবাদ হোক নিষ্প্রয়োজন,ফাঁকা থাক অভিধান।
মৃত্যু-প্রেমিকের প্রকৃত প্রিয়তমা হয়ে উঠি আমি,
অনুভূতির শূন্যস্থান পূরণ করতে করতে মিশে যাই শেষ বিন্দুতে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *