দুর্গাপুজোর নবপত্রিকা ও ভ্রান্ত ধারণা 

দুর্গাপুজোর নবপত্রিকা ও ভ্রান্ত ধারণা 

রিমা ঘোষ:-

দুর্গাপুজোর একটি বিশেষ অংশ হলো  ‘নবপত্রিকা’। দুর্গাপ্রতিমার ডান দিকে গণেশের পাশে লাল পেড়ে শাড়ি পরিহিতা ঘোমটা ঢাকা একটি কলাগাছ দেখা যায়। অনেকে একে কলা বৌ তথা গণেশের বউ বলে থাকেন। আদৌ এটি গণেশের বউ নয়, এটি গণেশ জননী মা দুর্গা।গণেশের স্ত্রীর নাম রিদ্ধি ও সিদ্ধি। এটিকে ‘নবপত্রিকা’ বলা হয় । 

‘নবপত্রিকা’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো ‘ন’টি গাছের পাতা’। বাস্তবে  ন’টি পাতা নয়, ন’টি উদ্ভিদ মা দুর্গার ন’টি শক্তির প্রতীক। উদ্ভিদগুলি হলো – কলা গাছ, কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, দাড়িম্ব, অশোক, মান ও ধান। প্রতিটি গাছেই দেবীর অধিষ্ঠান—কলায় ব্রহ্মাণী, কচুতে কালী, হলুদগাছে দুর্গা, জয়ন্তীতে কার্তিকী, বেলে শিব, ডালিমে রক্তদন্তিকা, অশোকে শোকরহিতা, মানকচুতে চামুণ্ডা ও ধানে লক্ষ্মী। একটি পাতা যুক্ত কলাগাছের সঙ্গে বাকি আটটি গাছ সাদা অপরাজিতা লতা দিয়ে বেঁধে লাল পাড় সাদা শাড়ি পরিয়ে, সিঁদুর ও ঘোমটা দিয়ে বধূর আকার দেওয়া হয়। সপ্তমীর দিন স্নান ও নবপত্রিকা    স্থাপন করার পরেই দুর্গাপুজোর মূল অনুষ্ঠান শুরু হয় এবং দশমী পর্যন্ত নবপত্রিকার পুজো হয়। 

তবে দুর্গাপুজোর সঙ্গে কীভাবে নবপত্রিকা যুক্ত হলো সেটা নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে মতভেদ আছে। অনেকে মনে করেন কোনো একসময় শবর জাতি ন’টি গাছ দিয়ে নবদুর্গার পুজো করতেন। সেই থেকেই নবপত্রিকার পুজো চলে আসছে। 

অর্থাৎ নবপত্রিকা গণেশের লাজুক বধূ নয়।

এটি প্রকৃতির একটি অংশ এবং দেবী দুর্গাকে প্রকৃতির প্রতিরূপ হিসেবে আহ্বান করার একটি প্রাচীন রীতি।

CATEGORIES

COMMENTS

Wordpress (0)
Disqus ( )