যীশু হেমব্রম: রাণীগঞ্জ:- বিরসা মুন্ডা ছিলেন একজন ভারতীয় জনজাতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী, সমাজ সংস্কারক এবং লোক নায়ক। তিনি মুন্ডা জনজাতির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ‘উলগুলান’ (বিদ্রোহ) নামে এক ধর্মীয় ও রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। তার বীরত্ব এবং জনজাতিদের মুক্তির জন্য অবদানের কারণে তিনি ‘धरতি आब्बा’ (পৃথিবীর পিতা) বা ‘भगवान’ নামে পরিচত। তিনি ১৫ নভেম্বর, ১৮৭৫ সালে বর্তমান ঝাড়খণ্ডের রাঁচির উলিহাতু গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৯ জুন, ১৯০০ সালে রাঁচি জেলে ব্রিটিশদের হাতে বন্দী অবস্থায় মারা যান। তিনি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকারের শোষণমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মুন্ডা সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষায় আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। তার নেতৃত্বে ১৮৯৯-১৯০০ সালে এই ‘উলগুলান’ (বিদ্রোহ) শুরু হয়।
আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল মুন্ডা রাজ প্রতিষ্ঠা এবং উপজাতিদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। তিনি আদিবাসীদের তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলেন জনজাতিদের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ছিলেন এবং তাদের মুক্তির জন্য লড়াই করার কারণে তাকে ‘धरতি आब्बा’ (পৃথিবীর পিতা) বা ‘भगवान’ (ঈশ্বর) উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন। তাই আজ ভারত বর্ষ জুড়ে বাবা বিরসা মুন্ডার জন্মজয়ন্তী পালন করছেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন। বাদ যায়নি পশ্চিমবাংলার পশ্চিম বর্ধমান জেলা। পশ্চিম বর্ধমান জেলা জুড়ে চলছে বিরসা মুন্ডার জন্মজয়ন্তী ও শ্রদ্ধাঞ্জলি দিবস। এমনই এক চিত্র দেখা গেল রানীগঞ্জ থানার অন্তর্গত রানিসায়ের মোড় ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে। এদিন আদিবাসী সংগঠনের পক্ষ থেকে বিরসা মুন্ডার ছবিতে মাল্যদান সহ বিরসা মুন্ডার ১৫০ তম জন্মজয়ন্তী শ্রদ্ধাঞ্জলি দিবস পালন করলেন – বাবা বিরসা জন্মজয়ন্তী পালন সমিতি । দেখা গেল আদিবাসী নৃত্য নাচ – গান তুলে ধরা হলো সাধারণ সভার মাধ্যমে বিরসা মুন্ডার জীবন কাহিনী। ধারতী বাবার জন্মজয়ন্তীতে উপস্থিত ছিলেন রানীগঞ্জ বিধানসভার বিধায়ক তাপস ব্যানার্জি। তিনি প্রথমে সিদো – কানহু মূর্তির সাথে সাথে বিরসা মুন্ডার ছবিতে মাল্য দান করেন এবং আদিবাসী সমাজের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। আদিবাসী সংগঠনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন, কান্দন হাঁসদা, মতিলাল সরেন, হীরালাল সরেন, রামলাল টুডু, সোনারাম হাঁসদা, জনার্দন কড়া, ডক্টর নগেন্দ্রনাথ সরেন সহ অন্যান্যরা।