রানু মজুমদার (ব্যাঙ্গালোর)

গলির ল্যাম্পপোস্টের আলো গুলো বড্ড ম্রিয়মাণ
রাস্তা যেন অন্ধকারের চাদরে মোড়া সরীসৃপ
দূরে দাঁড়িয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে কিছু চকচকে মুখ
কপালে কাঁচ পোকার টিপ
চোখের তলায় গাঢ় কাজল
বুকের দু’ভাগে ফিনফিনে শাড়ির আঁচল
নাভি স্পষ্ট দেখা যায় দূর থেকে
হাত নেড়ে খদ্দের ধরার চেনা ভঙ্গিমায়
কিছু চকচকে মুখ!!
দিনের আলোয় বাবু সাহেব
রাতের অন্ধকারে শরীর খোঁজে গলির ল্যাম্পপোস্টের আলোয়
এক চিলতে ঘরে, এক টুকরো কাঠের পাটাতনে
চলে শরীরের মাপজোক
ক্ষুধার্ত পেটের বেচা কেনার দর কষাকষি নিয়মিত
অজস্র কালসিটে এক একটা শরীরের খাঁজে ভাঁজে !!
কেউ নির্বাসনে কেউ বা স্বেচ্ছায়
পেটের দায় মেটায় শরীর দিয়ে
কিছু মুখ বড় ক্লান্ত চোখের কালি
ঢেকে রাখে গাঢ় কাজলের কালি তে
কিছু মুখ বলিরেখার আঁচড়ে বোঝায় শরীরে ধরেছে ভাঙন
তবুও চড়া মেকআপের আড়ালে গোপন রাখে নিজেকে
কিছু চোখ আজও হয়তো খোঁজে
এই ভীড় এলাকায় একবার যদি দেখা পায় আপনজনের
কিছু চোখে ঘৃনা ঝরে পড়ে
আপনজনের উদ্দেশ্যে ছেটায় থুঃ থুঃ
কিছুজন হয়তো ফিরতে চায় আপন কুলায়
কিছুজন হয়তো ভুলতে বসেছে প্রথম জীবনের কথা
ভুলেও মনে আনতে চায় না আপনজনের বিশ্বাসঘাতকতা!!
অন্ধকার গলি, স্যাঁতসেঁতে ঘুপচি ঘর
ভাঙা মেঝে, ভাঙাচোরা তক্তপোষ
মদের বোতল,ঝিমধরা ওষুধের বাক্স
শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা
সোহাগের চিহ্ন
এইচ আইভি রোগের স্বীকার
তবুও তবুও তবুও
প্রতিদিন গলির মোড়ে অজস্র চকচকে কিছু মুখ
অপেক্ষায়
অন্ধকারে শরীর বিকোয় পেটের দায়ে
নাম করণ ‘রেড লাইট এরিয়া’
দলে দলে নাম লেখায় একদল কামুক পুরুষ
দু’মুঠো গরম ভাত মুখে ওঠে সেই টাকায় ……!!
(বেশ কয়েক মাস আগে বর্ধমানে রাজবাড়ী যাচ্ছিলাম টোটো করে এক জায়গায় খুব জ্যাম…টোটো দাঁড়িয়ে রইল বেশ কিছুক্ষণ চোখ গেল সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে অনেক জন…জানলাম এটা রেড লাইট এরিয়া কিন্তু ঐ মুখের চাহনি গুলো বুকের মাঝে মোচড় দিয়ে উঠলো। বিশেষ করে একটা একুশ / বাইশ বছরের মেয়েকে দেখে)