তৃণমূলের পাল্টা প্রতিবাদ সভা- বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ

রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, আসানসোল, পশ্চিম বর্ধমান -: 

         কয়েকদিন আগে জামুরিয়ায় আয়োজিত বিজেপির সভায় বিরোধী দলনেতা আক্রমণের লক্ষ্য হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসকে। তারই পাল্টা হিসাবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে আসানসোলের ডামরা হাটতলা ফুটবল ময়দানে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের আইন ও শ্রম মন্ত্রী মলয় ঘটক, পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, রাজ্য নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন ওরফে দাসু, জামুড়িয়ার বিধায়ক হরেরাম সিং, জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিশ্বনাথ বাউরি, আসানসোল পুরনিগমের মেয়র পারিষদ গুরুদাস  চট্টোপাধ্যায়, আসানসোল দক্ষিণ (শহর) তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পূর্ণেন্দু চৌধুরী ওরফে টিপু সহ জেলা ও ব্লকের নেতা এবং অসংখ্য কর্মী। 

          এসআইআর এর নামে যাতে কোনো বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ না যায় এবং অবৈধ ভোটারের নাম তালিকাভুক্ত নাহয় তারজন্য প্রত্যেক বক্তা সরব হন। তাদের মতে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের কাজ সময়মতো সম্পন্ন করা উচিত ছিল। তাদের দাবি   জাতীয় নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ সৃষ্টি করে  বিজেপি সেটা অল্প সময়ের মধ্যে করার চেষ্টা করছে। কাজের চাপে একাধিক বিএলও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অথবা আত্মহত্যা করেছেন। ফলে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এটা কখনোই কাম্য নয়। 

        ভি শিবদাসন বলেন, ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে একটি রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে। তারপর থেকে নতুন  সরকার জনগণের কল্যাণের জন্য এত বেশি কাজ করেছে যে তারা প্রতিবারই জনগণের আশীর্বাদ পেয়েছে। ২০১৬ সালে কংগ্রেস ও  বামপন্থীদের মধ্যে জোট এবং সমস্ত ধরনের বিরোধিতা সত্ত্বেও বেশি সংখ্যক আসন পেয়ে তৃণমূল সরকার গঠন করে। ২০২১ সালেও এর অন্যথা হয়নি। উপস্থিত তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশ্যে  তিনি বলেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের  প্রস্তুতি এখনই শুরু করতে হবে। 

       মন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, সাড়ে চার বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও আসানসোল দক্ষিণের বিধায়িকা অগ্নিমিত্রা পালকে তার নির্বাচনী এলাকায় দেখা যায়নি। বিধানসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে, তাই এখন তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় ঘুরে ঘুরে নাটক করছেন, টোটো চালকদের হুমকি দিচ্ছেন। অথচ তার উচিত ছিল বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। এটাই বিজেপির কাজ। বিজেপি কখনও জনগণের কল্যাণের জন্য কিছু করেনি।

        অন্যদিকে, নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, কিছু লোক নিজেদের ডামরার মাটির সন্তান বলে দাবি করে। তার প্রশ্ন, সত্যিই কি তারা এই এলাকার সন্তান? ডামড়ার জন্য তাদের অবদান কী? করেছেন? নাম না করে আসানসোল দক্ষিণের বর্তমান বিধায়িকাকে তিনি শূর্পনখা বলে সম্বোধন করেন এবং ব্যঙ্গ করে বলেন, এলাকার মানুষ তাদের বিধায়ক সম্পর্কে এখন বলছেন যে “তোমার দেখা নাই রে তোমার দেখা নাই”।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *