জামুড়িয়ায় বিষাক্ত বাতাসের তাণ্ডব, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন

কাজল মিত্র: জামুড়িয়া:- জামুড়িয়া থেকে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক ছবি, যেখানে শিল্প দূষণ সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। গত রাতে জামুড়িয়ার শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলি থেকে এত মাত্রায় দূষণ ছড়ানো হয় যে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ৫০০-এরও ওপরে চলে যায়। এর ফলে গোটা এলাকার বাতাস বিষাক্ত হয়ে ওঠে।

এই ঘটনার দিনে জামুড়িয়ার শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত শ্যাম সেল কারখানার দূষণের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীরা জোরদার বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।

রাতভর কালো ধোঁয়া ও ধুলোর মেঘের প্রভাবে মহিষাবুড়ি, ইকড়া, চণ্ডীপুর, সার্থকপুর, শেখপুর, দামোদরপুর, বিজয়নগর ও ধাসনা গ্রামের বাড়ি, রাস্তা এবং গাছপালা কালো হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সকালে ঘর থেকে বেরিয়েই তারা দেখেন চারদিকে কালো আস্তরণ জমে আছে এবং শ্বাস নিতেও ভীষণ কষ্ট হচ্ছে।

ঘটনার পর গ্রামবাসীদের দাবি ছিল—গ্রামে গিয়ে কী পরিমাণ দূষণ হয়েছে তা কারখানা কর্তৃপক্ষকে সরেজমিনে দেখতে হবে। এরপর শ্যাম সেল কারখানার ম্যানেজমেন্ট গ্রামে ঘুরে দূষণের পরিস্থিতি পরিদর্শন করতে শুরু করে। কিন্তু তারা যখন ইকড়া গ্রামে পৌঁছায়, তখন ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা তাদের কয়েক ঘণ্টা ধরে ঘেরাও করে রাখেন। লিখিত আশ্বাস দেওয়ার পরেই গ্রামবাসীরা কারখানা কর্তৃপক্ষকে ছেড়ে দেন।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দূষণের কারণে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের স্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বহু পরিবার জানিয়েছে, এই এলাকা আর বসবাসযোগ্য নেই। তবুও দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর ও প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও কঠোর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—জামুড়িয়ার কারখানাগুলি কি মুনাফার জন্য স্থানীয় মানুষের জীবনের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলছে? এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ ও জেলা প্রশাসন কি এই গুরুতর পরিস্থিতিতে কোনও কড়া ব্যবস্থা নেবে, নাকি আগের মতোই বিষয়টি ফাইলের মধ্যেই চাপা পড়ে যাবে?

এখন দেখার বিষয়, এই বিষাক্ত বাতাসের বিরুদ্ধে প্রশাসন কবে জাগবে এবং জামুড়িয়ার মানুষ কবে একটি পরিষ্কার ও নিরাপদ পরিবেশ ফিরে পাবে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *