না-ফেরার দেশে রাজনীতিবিদ ‘মুকুল’ রায়

না-ফেরার দেশে রাজনীতিবিদ ‘মুকুল’ রায়

জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী, ফাইনাল এক্সপোজার -: 

      পার্থিব জগতের আমগাছগুলো যখন মুকুলে ভরে যাচ্ছে তখনই ঝরে গেলেন একদা ‘বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য’ মুকুল রায় (১৭ ই এপ্রিল ১৯৫৪ সাল- ২৩ শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সাল)। দীর্ঘ রোগভোগের পর রবিবার গভীর রাতে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তাঁর মৃত্যুতে রাজ্য ও জাতীয় রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়েই বাড়ির সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন তৃণমূলের নেতা-কর্মী এবং প্রয়াত নেতার অনুগামীরা। 

       যুব কংগ্রেস নেতা হিসাবে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মুকুল রায় রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ধীরে ধীরে তিনি মমতা ব্যানার্জ্জীর ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। মমতার ছায়াসঙ্গী হিসাবে তাঁকে দেখা যেত। যদিও সারদা কেলেঙ্কারি ও নারদা কাণ্ডে নাম জড়ানোর পর থেকেই মুকুল রায়ের সঙ্গে মমতা ব্যানার্জ্জীর দূরত্ব বাড়তে থাকে। ২০০৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হিসাবে তিনি রাজ্যসভার সদস্য মনোনীত হন। দ্বিতীয় ইউপিএ মন্ত্রীসভায় তিনি জাহাজ মন্ত্রকের দায়িত্ব পান এবং পরে রেলমন্ত্রী হন। এক সময় তৃণমূল কংগ্রেসে তিনি ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ ছিলেন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হন। কিছুদিনের জন্য তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং বিধায়কও হন। পরে আবার তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে আসেন। তবে শেষ কয়েক বছর শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরেই ছিলেন এবং দূরে থেকেই ইহজগত থেকে চিরবিদায় নিয়ে সব সমালোচনার উর্দ্ধে উঠে গেলেন।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *