বিধানসভা নির্বাচন – নজরে আউসগ্রাম বিধানসভা 

বিধানসভা নির্বাচন – নজরে আউসগ্রাম বিধানসভা 

রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জ্জী, ফাইনাল এক্সপোজার -: 

        রাজ্যের যে কয়েকটি বিধানসভার আসনের প্রার্থীপদ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে বিতর্ক চলছে তার অন্যতম হলো আউসগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র। দুটি ব্লক মিলিয়ে আউসগ্রামে আছে ২৬৭ গ্রাম এবং ২৯৬ টি বুথ। এছাড়াও আছে গুসকরা পুরসভা। একদা লালদূর্গ আউসগ্রাম আসনটি ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবারের জন্য বামফ্রন্টের হাতছাড়া হয়। তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে জয়লাভ করে বিধায়ক হন অভেদানন্দ থাণ্ডার। বহিরাগত হলেও এলাকায় ‘ডাকলেই পাওয়া যায়’ বিধায়ক হিসাবে তিনি পরিচিতি লাভ করেছেন। বর্তমানেও তিনি ওখানকার বিধায়ক। তখন তৃণমূলের পক্ষে এলাকার শেষ কথা ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। 

      আউসগ্রামে তৃণমূল বিরোধী হিসাবে বিজেপি এবং সিপিএম যথেষ্ট দুর্বল। কয়েকটি জায়গায় ওই দুই দলের অস্তিত্ব থাকলেও ব্লকের সমস্ত বুথে এজেন্ট দেওয়ার মত শক্তিশালী সংগঠন তাদের নাই। বড় কোনো অঘটন না ঘটলে ওখান থেকে এবারও তৃণমূল প্রার্থীর জয়লাভের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। 

       একসময় বিধায়কের ছায়াসঙ্গী ছিলেন আউসগ্রাম -২ নং ব্লক তৃণমূল সভাপতি সেখ লালন। পরে দু’জনের মধ্যে দূরত্ব গড়ে ওঠে।  একটি জনসভায় লালন প্রকাশ্যে বিধানসভা নির্বাচনে স্থানীয় প্রার্থীর দাবি তোলেন। তারপর থেকেই শুরু হয় বিতর্ক। যদিও আউসগ্রাম – ১ নং ব্লক তৃণমূল সভাপতিকে বিধায়কের সঙ্গে দেখা যায়। গুসকরা শহর নেতৃত্বের সঙ্গে একসময় বিধায়কের দূরত্ব গড়ে ওঠে । যদিও এটা দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং দক্ষিণপন্থী দলগুলোর ক্ষেত্রে খুব স্বাভাবিক ঘটনা। 

      তবে এলাকাবাসীর কাছে বর্তমান বিধায়কের গ্রহণযোগ্যতা যথেষ্ট বেশি। আপদে বিপদে তাকে সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে দেখা যায়। খাতায় কলমে বহিরাগত হলেও সকাল দশটা থেকে সন্ধ্যা ছ’টা সাতটা পর্যন্ত গুসকরায় নিজস্ব কার্যালয়ে তাকে থাকতে দেখা যায়। ফলে মানুষের পরিষেবা পেতে কোনো সমস্যা হয়না। প্রতিটি অঞ্চলে অনুষ্ঠিত নানান সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে তাকে দেখা যায়। যদিও তার বিরুদ্ধে নানান ধরনের অভিযোগ উঠেছে। গুসকরা শহরে এমন কিছু ব্যক্তিকে তার পাশে দেখা গেছে যেটা শহরের পুরনো দিনের তৃণমূল কর্মীরা মেনে নিতে পারেনি।

       আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পারফরম্যান্স ও জনসংযোগ যদি তৃণমূলের প্রার্থী হওয়ার চূড়ান্ত মাপকাঠি হয় সেক্ষেত্রে বর্তমান বিধায়ক আউসগ্রামের প্রার্থী হিসাবে অটোমেটিক চয়েস হবেন। যদিও প্রার্থী হিসাবে আরও দু’জনের নাম শোনা যাচ্ছে। এলাকার রাস্তা ঘাট থেকে শুরু করে বিভিন্ন উন্নয়নের ক্ষেত্র তার ব্যক্তিগত উদ্যোগ অস্বীকার করা যাবেনা। এখন দেখার দলীয় প্রার্থী হিসাবে আউসগ্রামে তৃণমূল থেকে কে মনোনয়ন পান।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *