অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, ফাইনাল এক্সপোজার -:
শীতকালে অধিকাংশ গাছের পাতা ঝরে যায়। চারদিকে বিরাজ করে একরাশ শূন্যতা, বিষণ্নতা। শীতের অবসানে বসন্তের আগমনে ধীরে ধীরে চারপাশ আবার রঙিন হতে থাকে। প্রকৃতি যেন নতুন রূপে সেজে ওঠে। দোলের ফাগে জীবন যেন রঙিন হয়ে বসন্তের আগমনকে স্বাগত জানায়।
দোলযাত্রা হলো হিন্দুদের বাংলা বছরের শেষ উৎসব যা শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার ঐশ্বরিক শাশ্বত প্রেমের প্রতীক। হিন্দুদের বিশ্বাস এই দিন রাধা ও গোপীদের সঙ্গে কৃষ্ণ রঙের খেলায় মেতে উঠেছিলেন। তাই রাধা-কৃষ্ণের যুগল মূর্তিকে দোলায় বসিয়ে আবির মাখিয়ে কীর্তনের মাধ্যমে ভালোবাসা, একতা, সম্প্রীতি ও মিলনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। দোলযাত্রার পবিত্র দিনে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব জন্মলাভ করেন। ফলে বাঙালির কাছে এইদিনটি আলাদা তাৎপর্য বহন করে আনে। কারণ কৃষ্ণের প্রতি তাঁর প্রেম ছিল জগৎবিখ্যাত। মহাপ্রভুর মাধ্যমে রাধা-কৃষ্ণের প্রেম ধর্মীয় গণ্ডি ছাড়িয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিল আধ্যাত্মিক পর্যায়ে।
পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের হাত ধরে রঙ খেলার দোল উৎসব শুরু হয়েছিল। ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে এই তিথিতেই রাধা ও তাঁর গোপিনীদের সঙ্গে কৃষ্ণ রঙের খেলা শুরু করেছিলেন। পরিবারের সকলের মঙ্গল কামনায় এইদিন প্রতিটি হিন্দু বাড়িতে সত্যনারায়ণ পুজোর আয়োজন করা হয়। অন্যত্র দু’দিন ধরে হলেও কৃষ্ণের লীলাভূমি দ্বারকায় ১৬ দিন ধরে দোল উৎসব পালিত হয়।
হোলি হলো অশুভ শক্তি হোলিকার বিনাশ করে বিষ্ণুভক্ত প্রহ্লাদের জয়ের প্রতীক হিসাবে চিহ্নিত। উৎসবের আগের দিন সন্ধ্যায় অশুভ শক্তিকে পোড়ানোর প্রতীকী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এইদিন সমস্ত পুরনো বিবাদ ভুলে একে অপরকে আলিঙ্গন করা হয়।
বাঙালির জীবনে বসন্তের আগমন মানেই নিজেকে নতুন রঙে রাঙিয়ে নেওয়ার পালা।
ধীরে ধীরে বাঙালির জীবনে দোল পূর্ণিমা, হোলি, বসন্তোৎসব মিলে মিশে হয়ে উঠেছে বারো মাসের তেরো পার্বণের আর একটি পার্বণ। ধর্মীয় তাৎপর্যের বাইরে গিয়ে এই উৎসব হয়ে উঠেছে মানুষে মানুষে মিলনের, প্রেমের উৎসব। ঠিক যেমন ছিল রাধা-কৃষ্ণের দোলের উদ্দেশ্য, কৃষ্ণ বন্দনায় বিভোর চৈতন্য মহাপ্রভুর স্বপ্ন।
