আবির

শরদিন্দু ঘোষ (বর্ধমান)

ছেলেটা হাঁটছে।
তার দিকে খেয়াল নেই কারও।
সবাই একে অপরকে নানা রঙের আবিরে
রাঙিয়ে দিতে ব্যস্ত।
সেই রাঙিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে ঝড়ে পড়ছে
আনন্দ, উচ্ছ্বাস।
তার দিকে নজর নেই কারও।
রঙের কোনও আভা স্পর্শ করেনি তাকে।
ছেলেটা হাঁটছে।
একটা সময় ছেলেবেলা, খেলার সাথী সব ছিল তার।
মুঠোভরা দু হাতে আবির নিয়ে তার মিস্টি দুটো গাল ভরিয়ে দিত দিদি।
সেই স্পর্শ ছিল বড় আদরের।
তাতে ছিল মায়ের হাতের পরশ।
আজ তার কেউ নেই।
সে সম্পূর্ণ একা।
এই পৃথিবীতে কেউ চেনেনা তাকে।
থমকালো ছেলেটা।
এগিয়ে এলো।
সঙ্কোচের সঙ্গে তার কাতর অনুনয়-
আমাকে একটু আবির দেবেন দিদি।
‘নিশ্চয়ই,কেন নয়’!
আবিরে ললাটে রক্ত তিলক এঁকে দিলেন
লাল পাড় সাদা শাড়ির মহিলা।
অস্ফূটে বললেন,জয়ী হও।
চোখ বুজে সেই আবিরের স্পর্শ নিল ছেলেটা।
স্মরণ করলো হারিয়ে যাওয়া ছেলেবেলা, মায়ের মতো দিদিকে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *