জয়া সান্যাল (কলকাতা)

বসন্তের আকাশে ক্ষণিকের দামাল হাওয়ায়
কৃষ্ণবর্ণের মেঘের ঘনঘটা
নিস্তব্ধ রাতের বেলাশেষে, বিদ্যুতের ঝলকে
ভিজে ঝড়া পাতার বুকে লেখা
এই শহরটার গোপন কথা গুলো
হতাশার শ্রাবণ উপভোগ করছে নির্দ্বিধায়।
কালবৈশাখী তাণ্ডবে বিধস্ত জীবনের সারাংশে
কবিতা বেলায় আমার হারিয়ে যাওয়া মেয়েবেলা
আঁধার আঁকড়ে স্মৃতির বায়োস্কোপ দেখে।
ভোর হয়, দিন শুরু হয় নিত্য নৈমিত্তিক রুটিনে
মনুষ্যত্বের ভণ্ডামির পূজো হয়
পালাগান লেখা হয়, রাস্তার মোড়ে মোড়ে আয়োজিত হয়
পথসভা, বক্তব্য রাখা হয়, দান ধ্যান করা হয়
তবুও খিদে মেটে না।
খিদে মেটানোর দায় নেই কারোর
আর দায় এড়িয়ে ব্যস্ত রাখতে চায় নিজেকে
মনুষ্যত্বের পূজার আয়োজনে।
উনুনে ফুটন্ত হাঁড়ির দিকে চেয়ে থাকে শহরটা
আগুনও নিভে যায় একসময়
কিন্তু খিদে মাপে না।
রঙিন হয় বসন্ত, উৎসবের আমেজে মেতে ওঠে
আবার শহরের অলিগলি, ফুটপাত
হৈচৈ পড়ে যায়
গান বাজে, কবিতা লেখা হয়
মালা গেঁথে সাজানো হয় বসন্ত কে
আর এই শহরটার গোপন কথাগুলো অপেক্ষা করে থাকে
একটা কালবৈশাখী ঝড়ের
উড়িয়ে দেওয়ার জন্য,এই শহরটার মনুষ্যত্বের ধ্বজাটাকে।
গান বাজে
এক পেট খিদে নিয়ে গলা মেলায় শহরটা
“রং দে বাসন্তী _ রং দে__“