বৃষ্টি নূপুর (কলকাতা)

রাত্রির গভীর নীরবতায়
যখন পৃথিবী নিঃশব্দে ঘুমিয়ে পড়ে,
আমি তখন দাঁড়িয়ে থাকি সময়ের ধ্বংসস্তূপে—
নিজের অস্তিত্বকে প্রশ্ন করি
আমি কি সত্যিই বেঁচে আছি?
নাকি কেবল নিঃশ্বাসের অভ্যাসে
চলতে থাকা এক ক্লান্ত দেহ—
একটি জীবন্ত লাশ?
জীবনের এই অগাধ মহাসাগরে
আমি যেন এক পথহারা নাবিক,
হাতে আছে একটি জীর্ণ কম্পাস,
যার কাঁটা আজ আর
কোনো দিক নির্ণয় করতে পারে না।
চারদিকে দেখি অনিশ্চয়তার ঢেউ,
আর দূরে কোথাও…
ডুবে যাচ্ছে আমার স্বপ্নের টাইটানিক।
হাজারো আলোকবর্ষ জুড়ে দূরের নক্ষত্রেরা
নীরবে তাকিয়ে থাকে আমার দিকে
যেন তারা জানে
মানুষের হৃদয়ে কত অদৃশ্য অন্ধকার বাস করে ।
আমি তখন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিই
আকাশের বুক চিরে দাঁড়িয়ে থাকা
মহাজাগতিক কালপুরুষের কাছে—
যে যুগ যুগ ধরে দেখেছে
মানুষের উত্থান আর পতনের ইতিহাস।
তার ডিকশনারীতে নেই কোনো উত্তর
শুধু নীরব দৃষ্টিতে বুঝিয়ে দেয়—
স্বপ্ন ভাঙার শব্দ,
পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃশব্দ ট্র্যাজেডি।
এই সভ্যতার ঝলমলে আলোয়
আমরা অনেকেই বেঁচে নেই।
আমরা শুধু দেহটাকে টেনে নিয়ে চলি,
আর আত্মা পড়ে থাকে
ভাঙা আকাঙ্ক্ষার ধ্বংসস্তূপে।
স্বপ্নহীন হৃদয়, আশাহীন প্রাণ
মানুষকে মানুষ রাখে না।
তাকে ধীরে ধীরে রূপান্তরিত করে
এক নিঃশব্দ অস্তিত্বে—
একটি চলমান ছায়ায়,
একটি অন্তহীন নিঃসঙ্গতায়,
একটি জীবন্ত লাশে।
