‘ভূমিপুত্র’ বনাম ‘বহিরাগত’ তর্জা: জামুড়িয়ায় তুঙ্গে রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ

‘ভূমিপুত্র’ বনাম ‘বহিরাগত’ তর্জা: জামুড়িয়ায় তুঙ্গে রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ

সৌভিক সিকদার, ফাইনাল এক্সপোজার -:

      পশ্চিম বর্ধমানের যেসব বিধানসভা কেন্দ্র আলোচনার টেবিলে উঠে এসেছে তার অন্যতম হলো একদা লালদুর্গ জামুরিয়া। যদিও এবারের লড়াইয়ে মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ভূমিপুত্র’ বনাম ‘বহিরাগত’ ইস্যু। বিশেষ করে বিজেপি   প্রার্থী ডা. বিজন মুখার্জ্জীকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে এক তীব্র বাদানুবাদ ও স্লোগান যুদ্ধের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার বিভিন্ন মোড়ে ও রাজনৈতিক মহলে বর্তমানে একটি স্লোগান  জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে- “হঠাৎ করে উদয় হওয়া ডা. বিজন মুখার্জ্জী ৪ তারিখ অস্ত যাবে।”

           স্থানীয়দের অভিযোগ, ডা. বিজন মুখার্জ্জী  এই অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দা নন। আগে এলাকায় তাকে দেখা যায়নি। নির্বাচনের মুখে তার হঠাৎ  আবির্ভাব ঘটেছে। ফলে সেই ‘অপরিচিত’ মুখকে মেনে নেওয়া কঠিন। এলাকাবাসীর দাবি, তাদের  সুখ-দুঃখের সাথী হিসেবে তারা ঘরের মানুষকেই পাশে চান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কার্যত ঘুরিয়ে তারা তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হরেরাম সিংয়ের কথা বলতে চেয়েছেন। ভোটারদের এই মনোভাব তৃণমূল শিবিরের পালে হাওয়া দিচ্ছে এবং এই ‘বহিরাগত’ তকমাকে হাতিয়ার করেই শাসকদল প্রচারের ময়দানে শান দিচ্ছে। 

        পাল্টা জবাবে বিজন মুখার্জ্জীর সমর্থকদের দাবি, সেবামূলক কাজের জন্য কোনো সীমানা হয় না। তাছাড়া সেবার মানসিকতা নিয়ে আসা চিকিৎসককে এভাবে আক্রমণ করা অনুচিত।  তবে স্থানীয় ভাবাবেগকে উসকে দিয়ে যেভাবে ‘অস্ত যাওয়ার’ স্লোগানটি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা জামুড়িয়ার নির্বাচনী লড়াইকে এক অন্য মাত্রা দিয়েছে। 

​       তৃণমূলের বর্তমান বিধায়ক হরেরাম সিং এবং বামফ্রন্টের শক্ত ঘাঁটির মোকাবিলা করা তার জন্য বড় পরীক্ষা। জামুরিয়ার মতো বাম-তৃণমূল অধ্যুষিত এলাকায় বুথ স্তরে বিজেপির সংগঠন দুর্বল হলেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব যথেষ্ট শক্তিশালী। জেতার সম্ভাবনা কম থাকলেও শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানকে হাতিয়ার করে ডা. মুখার্জ্জী যদি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারেন, তবে জামুরিয়ায় এবার কঠিন লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

       এখন দেখার, ৪ ঠা মে নির্বাচনের ফলাফলে জনতা এই ‘ভূমিপুত্র’ আবেগে সিলমোহর দেয় নাকি ‘বহিরাগত’ বিতর্ককে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়। আপাতত জামুড়িয়ার অলিতে-গলিতে এই ‘সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত’-এর তত্ত্ব নিয়েই জোর চর্চা চলছে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *