রাকা ভট্টাচার্য্য (কলকাতা)

সংগ্রামের প্রসূতিকক্ষে জন্ম দিয়েছি সংগ্রামী সরস্বতী,অভঙ্গুর জেদে দারিদ্রতার দয়াকে উপেক্ষা করে এগিয়েছি জীবন রথের চাকা, অন্যায় অধর্মের সাথে আমার আপোষহীন মামলা চিরটাকাল।
মেয়ে আমার তেমনই নির্ভীক চিত্ত বিরাঙ্গনা লক্ষ্মী।
অন্ধকারের সাথেই শত্রুদের গোপন আঁতাত সর্বত্র–
অর্থ, শরীর, মাদক, ক্ষমতা সব-ই কালোর শয়তানের করাল হাতে বন্দী। মেয়ে আমার কালো মুছে আলো আনতে চেয়েছিল ,এটুকুই ছিল অপরাধ।
৯-ই আগস্ট ২০২৪, রাত্রির কালো থাবায় হাসপাতাল চিত্তরঞ্জন , ডাক্তার মেয়ে আমার ছিন্ন ভিন্ন শরীরে ঝুলন্ত লাশ হয়ে গেল, পুলিশি ঘেরাটোপে দাঁড়িয়ে পরদিন দেখলাম এক খুন হওয়া রক্তাক্ত সকাল।
সেইদিন থেকে আমি ‘অভয়ার’ মা।
এক প্রতিবাদিনী সততার মা, ভোর আনতে গিয়ে চিরকালের মত রাত্রি হয়ে যাওয়া এক ভয়ঙ্কর গল্পের মা।
দেশ বিদেশ উত্তাল জনতার নানারূপ প্রতিবাদ চিত্র।
শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সংবাদ রাজনীতি সবেতেই স্বেচ্ছাসেবক আমার বৃত্তে।
আমি যে ‘অভয়ার’ মা!
কেউ চেয়েছে শিল্পী হয়ে উঠতে, কেউ চেয়েছে কবি হয়ে উঠতে, কেউ চেয়েছে বড় সাংবাদিক হয়ে উঠতে, কেউ চেয়েছে রাজনীতির বাজি মাৎ করতে…
শুধু আমি চেয়েছি আত্মার শান্তি, চেয়েছি
দিন আনা সন্তানের রাত্রি হয়ে যাওয়ার নেপথ্য ঘুঘুর বাসা ভেঙে দিতে। চেয়েছি আমার সন্তানকে রাতভোর একটু একটু ছিঁড়ে খাওয়া নরশকুনদের বিচারাধীন শাস্তি।
আমি ‘অভয়ার’ মা হতে কিছুতেই চাইনি…
আমি ‘অভয়ার’ মা হতে কিছুতেই চাইনি…..