রাই প্রিয়া (ক্যানিং)

মানুষ কখনও কখনও নিজ অন্তরেই এক অনামা শ্মশান করে বহন,
সেখানে প্রত্যহ কিছু মৃত স্বপ্নের হয় নিঃশব্দে দাহ।
অবসাদ কোনো সাময়িক মেঘ নয়,
এ এক অন্তর্লীন অতল বিষাদ সমুদ্র,
যেখানে মানুষ ক্রমশ ডুবে যায় নিজেরই অনামা শুন্যতার ভিতর।
এ এক ধীর বিষন্নতার মহাকাব্য,
গোপনে রক্তক্ষরণ, অসংখ্য ভাঙনের শব্দ।
বাহ্যিক পৃথিবী তখনো সচল থাকে –
সূর্য যথারীতি উদিত হয়,
পাখিরা ডানায় আকাশ মাপে,
মানুষ উৎসবের আলোকমালায় নিজেদের সুখী প্রমাণে ব্যস্ত থাকে।
কিন্তু এক ক্লান্ত আত্মা নিজের অস্তিত্বের ভগ্ন মিনারে বসে, নিঃশব্দে প্রশ্ন করে –
বেঁচে থাকা কি শুধুই অভ্যাসের আরেক নাম?
না, ডিপ্রেশন মানে শুধুই শুন্যতা নয়,
কখনও তা অনুভূতির সম্পূর্ণ অবসান,
যেখানে দীর্ঘ দহন শেষে হৃদয় হয় কঠিন পাষাণ,
বহুবার বিদীর্ণ হওয়া মৃত্তিকা যেমন বৃষ্টিকেও আর গ্রহণ করে না।
তবুও সুদীর্ঘ রাত্রিও একদা ভোরের কাছে করে আত্মসমর্পণ,
তেমনই মানুষের অন্তরলোকেও একবিন্দু আলোকরশ্মি তোলে আলোড়ন,
যে আলো বারবার বলে –
ভেঙে পড়া মানে পরাজিত বা নয় সমাপ্ত,
কখনও কখনও ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই নব আত্মার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত..।।
